প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২১, ২১:১০
অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জায় ডুবালো বাংলাদেশ

এ যেন আদর সোহাগ করে ঘরে ডেকে এনে সামনের খাবার প্লেটটি কেড়ে নেওয়া। ওয়ার্ল্ড ফেভারিট টিম অস্ট্রেলিয়ার সাথে তেমনটাই করে দেখালো বাংলাদেশ। এমন বাংলাদেশকে আগে দেখেনি কেউ। দেখেনি এমন অস্ট্রেলিয়াকেও। টি-টুয়েন্টি পয়েন্ট টেবিলের ৫ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে ১০ নম্বর দল বাংলাদেশ এমন লজ্জায় ফেলবে তা হয়তো ভাবতেও পারেনি ক্রিকেট বিশ্ব। সেই ম্যাজিক্যাল কাজটিই করে দেখালো টিম টাইগার। সিরিজের শেষ ম্যাচের জয়টা ছাপিয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ডকে। বাংলাদেশের কাছে মাত্র ৬২ রানে অল আউট অজিরা। লজ্জায় ডুবলো ক্যাঙ্গারু শিবির। অহংকার চুর্ণ হলো হলদে জার্সির দলদের।
|আরো খবর
ক্রিকেট বিশ্বের মোড়লরা ভাবতে পারে এটি কোন অঘটন কাংবা টিম অস্ট্রেলিয়ার ক্যারিয়ারে কলংকের দাগ। কিন্তু বাঙ্গালী সমর্থকদের কাছে এটি একটি সংগ্রামের নাম। অস্ট্রেলিয়ার শর্তের বেড়াজালের উপর একটি একটি করে চপটাঘাত। আজ সোমবার টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন ৬২ রানে অল-আউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে ৭৯ রানে অল-আউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, টি-টোয়েন্টিতে এতদিন সেটিই ছিল তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।
আজ রাত ১টায়ই ফ্লাইট অজিদের। তবে কি নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নেয়ার জন্যই এমন দ্রুত আসা যাওয়া? অস্ট্রেলিয়া যেন বিমানবন্দরে যেতে চাচ্ছে আগেভাগেই। শেষ ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে তারা।
ম্যাথু ওয়েডের ২২ ও বেন ম্যাকডারমটের ১৭ রান বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার বাকী ৯ ব্যাটসম্যানের স্কোর যথাক্রমে ৩, ৪, ৩, ৩, ১, ২, ১, ১*, ৪। এমন ধরাশায়ী হতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি অজিরা।
১২৩ রান তাড়ায় ১৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো প্রতিপক্ষেরও এটি সর্বনিম্ন স্কোর। ৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সাকিব, ১২ রানে ৩টি নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। নাসুম ২ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৮ রান। ম্যাচের মাঝপথে মনে হচ্ছিল, কিছু রান কম হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তবে আবারও যথেষ্টর চেয়ে বেশী কিছু হল সেটি। এ সিরিজেই সর্বনিম্ন রানের সম্বল নিয়ে জেতার রেকর্ড নতুন করে লিখেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে আবারও বদলে গেল সে রেকর্ডটা।
দিনের প্রথম ইনিংসটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। বেরসিক পিচে বাংলাদেশ থেমে গিয়েছিলো ১২২ রানে। ১৪ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৯১ রান ছিল বাংলাদেশের। সে সময় ১৪০ স্কোরও মনে হচ্ছিল সম্ভব ভালোভাবেই। তবে এরপর থেকেই খেই হারিয়েছে স্বাগতিকরা। শেষ ৫ ওভারে তাঁরা তুলেছে মাত্র ২০ রান। এ সময়ে এসেছে একটিই বাউন্ডারি। বাংলাদেশ থেমেছে ১২২ রানেই, ৮ উইকেট হারিয়েছে তাঁরা। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৭ রানের সম্বল নিয়ে জিতেছিল বাংলাদেশ, তবে এবার চ্যালেঞ্জটা আরও বড় ছিলো।
১৫তম ওভারেই ফিরে গেছেন ওপেনিং ছেড়ে নীচে নামা সৌম্য। সিরিজে নিজের সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন, তবে সেটি ১৬। নেমেই ছয় মারা আফিফ হতাশ হয়েছেন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকতে থাকতে। নুরুল নেমে সুবিধা করতে পারেননি, ১৩ বলে করেছেন ৮ রান। মোসাদ্দেক প্রথম রান করেছেন ৭ম বলে গিয়ে।
শেষ ওভারে এসে এলিসকে স্কুপ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন আফিফ, ১১ বলে ১০ রান করে। কোনো বল না খেলেই রান-আউট হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
স্লোয়ারের দারুণ ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার নাথান এলিস, ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। দারুণ করেছেন ড্যান ক্রিস্টিয়ানও, ১৭ রান দিয়ে তিনিও ২ উইকেট নিয়েছেন তাঁর ৪ ওভারে।
দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব, সাইফুদ্দিন, নাসুমের ঘুর্ণির কাছে মাথা নত করেছে টিম টাইগার। আরও একটি অনবদ্য জয় পেলো টিম টাইগার। দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে ৯ আগস্ট-২০২১ তারিখটি। আরো একবার বিশ্বের বুকে উচ্চারিত হলো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্জের অমর সে লাইন, সাবাশ বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।