রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০১:০১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-২৭

বিএনপি করতে গিয়ে আমার জীবন-যৌবনের পুরো সময়টা ব্যয় করেছি

..................ফারুক আহমদ খান

নুরুল ইসলাম ফরহাদ
বিএনপি করতে গিয়ে আমার জীবন-যৌবনের পুরো সময়টা ব্যয় করেছি
ক্যাপশন :সম্ভাব্য প্রার্থী ফারুক আহমদ খান।

ফারুক আহমদ খান। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যায় তাঁকে। ফেসবুকে তাঁর সরব উপস্থিতি মূলত লেখালেখি। তাঁর ক্ষুরধার লেখনি এবং চমৎকার যুক্তির কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে আইসিটি মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবি করে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে বিএনপির মহাসচিব বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁর যৌবনের প্রথম প্রেম হলো ছাত্রদল। রাজনীতির ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়ার পরও চাকরি করেননি

ফারুক আহমদ খান ১৯৮৮ সালে অজিত গুহ ডিগ্রি কলেজ (কুমিল্লা) ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ১৯৯০ সালে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯৩ সালে চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি, ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য, ২০১১ সালে উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক, ২০১৯ সালে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স করেন। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন। নির্বাচিত হলে কেমন ইউনিয়ন গড়বেন সে বিষয়ে মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন্ পদে প্রার্থী হচ্ছেন?

ফারুক আহমদ খান : আমি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন?

ফারুক আহমদ খান : আমি অতীতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি। তবে ১৯৮৫ সালে উপজেলা নির্বাচন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সকল নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কাজ করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন?

ফারুক আহমদ খান : আমি প্রত্যক্ষভাবে অবশ্যই দলের সমর্থন আশা করি। কারণ, আমি ১৯৮৮ সালে ছাত্রদলের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করি। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে এখন পর্যন্ত সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। সোস্যাল মিডিয়াতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখির কারণে আমার বিরুদ্ধে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি কর্তৃক আইসিটি মামলা করা হয়। আর সে মামলায় আমি চার মাস জেল খেটেছি। এই দল করতে গিয়ে আমার জীবন ও যৌবনের পুরো সময়টা ব্যয় করেছি। সুতরাং দলে আমার শ্রম ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অবশ্যই দলের সমর্থন আশা করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, নাকি বিজয়ী হওয়ার জন্যে নির্বাচন করবেন?

ফারুক আহমদ খান : আমি যেহেতু একটা বড়ো রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মী, সে কারণে এলাকায় আমি কম-বেশি পরিচিত আছি। তারপরও এবার নিজে প্রার্থী হিসেবে এলাকার জনগণের কাছে ভিন্নভাবে পরিচিত হচ্ছি। বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

ফারুক আহমদ খান : বর্তমান বিএনপি সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে নির্বাচনের জন্যে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, আজ সেই আন্দোলনের ফসল বর্তমান সরকার। সুতরাং বর্তমান সরকারের আমলে আগামী সকল পর্যায়ের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

ফারুক আহমদ খান : ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এমএ হান্নান সাহেবের নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ফরিদগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার বইবে। তারই ধারাবাহিকতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের কাছ থেকে এলাকার উন্নয়নের জন্যে সার্বিক সহযোগিতা পাবো ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজের কোনো উদাহারণ আছে? থাকলে দু-একটি বলতে পারেন?

ফারুক আহমদ খান : আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময়ই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমার প্রচেষ্টায় উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে। সম্প্রতি একজন অসহায় গৃহিণীকে একটি নতুন ঘর করে দিয়েছি।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়