বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৫

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-২৬

এলাকাবাসীর অনুরোধে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো, তারপরও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

-------লায়ন আলমগীর হোসেন জুয়েল

গোলাম মোস্তফা
এলাকাবাসীর অনুরোধে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো, তারপরও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
ক্যাপশন :সম্ভাব্য প্রার্থী লায়ন আলমগীর হোসেন জুয়েল।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লায়ন মো. আলমগীর আলম জুয়েল বলেছেন, যেদিন থেকে আমি বুঝতে শিখেছি সেদিন থেকেই আমি আমার সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অনুরোধের কারণে এবারের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ করবো।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিয়ে আলমগীর হোসেন জুয়েলের সাথে কথোপকথন নিম্নে প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে শুনেছি। সত্যি কি নির্বাচন করবেন?

আলমগীর আলম জুয়েল : সামাজিক পরিবারে আমার জন্ম হয়েছে। তাছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে পা রেখে রাজনৈতিক জীবন শুরু। ছাত্রজীবন থেকেই এলাকাবাসীর সুখ-দুঃখে সাথী হয়েছি। তাছাড়া আমার এলাকার মানুষের যে কোনো বিপদ-আপদে, গরিব-অসহায় মানুষের মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা এবং শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সব সময়ই আমি সহযোগিতা করে আসছি। সর্বোপরি আমার বিগত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসীর অনুরোধে আসন্ন নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

আলমগীর আলম জুয়েল : সত্যিকার অর্থে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বা চলমান সমাজ ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছে ছিলো না। আমার এলাকার জনগণ, গরিব অসহায় মানুষ এলাকায় একজন সৎ, যোগ্য, যিনি তাদের পক্ষে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন, এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে চায়। তাদের সেই চাহিদার প্রেক্ষিতে আমি তাদের পছন্দের মানুষ হিসেবে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ করেছেন। তাদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখি, যেহেতু আমি একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী এবং ছাত্রজীবন থেকে সেই আদর্শের রাজনীতি করে আসছি, তাই এক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেবো

আমি পূর্বে কখনো নির্বাচন করিনি। তবে আমার বাবা সেকান্দর মিয়াজী এই ইউনিয়ন পরিষদে একবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

আলমগীর আলম জুয়েল : দেশের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট সে অবস্থায় থাকে না। তারপরও যেহেতু আমি রাজনৈতিক দল করি, আমার দলের সমর্থন বা দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করলে বা তাদের সমর্থন পেলে বিজয়ী হওয়া সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমি দলের সমর্থনে নির্বাচন করবো, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যাবো না।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারী, সুযোগ্য সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতি করছি। তিনি আমাদের অভিভাবক। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেন, সে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

আলমগীর আলম জুয়েল : আমি আপনাকে বলেছি, আমি ও আমার পরিবারের সদস্যগণ আমরা এলাকায় সম্ভ্রান্ত একটি বংশের। আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে সকলের কাছে একটি পরিচিতি আছে। তাই নির্বাচন করে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজনবোধ করি না। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে আর আল্লাহর হুকুম যদি থাকে, জনগণের গোপন রায়ের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হবো, বিজয়ের জন্যেই নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

আলমগীর আলম জুয়েল : আমি কখনোই কোনো কিছুর বিনিময় প্রচার বা প্রকাশ করতে চাই না। তাই নির্বাচন করবো স্বপ্ন নিয়ে কখনো ঘুরি না। আমার এলাকার জনগণের স্বার্থে আমি সবসময় আছি, বিভিন্ন গ্রামে রাস্তাঘাট, টয়লেট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। তাছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে বড়ো নৈতিক অবক্ষয় কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং বিরোধী কার্যক্রম আমি অব্যাহত রেখেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা, আমার এলাকার জনগণ তাদের গোপন ব্যালটের মধ্য দিয়ে আমার ওপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করবেন। তাদের একজন সেবক হিসেবে বাগাদী ইউনিয়নকে সারাদেশে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত করবো ইনশাআল্লাহ।

তাছাড়া আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার এলাকার নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবসময় কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

আলমগীর আলম জুয়েল : স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। দেশের একমাত্র বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এ দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্যে আন্দোলন করে সে অধিকার নিশ্চিত করেছে। অতএব আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের সরকারের নেতৃত্বে সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

আলমগীর আলম জুয়েল : আমি পূর্বে বলেছি, এখনো বলছি, আমার এলাকার বা আমার ইউনিয়নবাসীর আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। অতএব আমি যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি তাহলে আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার ভোটারদের কাছ থেকে ভোট নিতে হবে না। জনগণ তাদের একজন সেবক হিসেবে আমাকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ। কারণ তারা অবশ্যই জানে আমি কেমন পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আমার ইউনিয়নবাসীর কেউ কোনো অভিযোগ বা আঙ্গুল তুলে কথা বলতে পারবে না। কারণ, আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা অন্যায় বা অপরাধের সাথে জড়িত নই

আবারো বলছি, সকল ধরনের অপরাধমুক্ত এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার মূল কাজ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

আলমগীর আলম জুয়েল : সর্বোপরি আমি আমার ইউনিয়নবাসীকে বলবো, বিগত দিনে আপনারা আমার কর্মকাণ্ড দেখে আপনাদের একজন সেবক হিসেবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে অনুরোধ করেছেন। আপনাদের অনুরোধে এবং আমাদের অভিভাবক দলের কাণ্ডারী চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই আমাকে আপনাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিলে, আপনাদের রায়ে আমি বিজয়ী হলে শাসক নয়, একজন সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকবো। আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও মঙ্গল কামনা করছি ।

উল্লেখ্য, লায়ন আলমগীর আলম জুয়েল ছাত্রজীবনে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়া অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতি শেষে তিনি যুবদলের রাজনীতি শুরু করেন ।

সাবেক ছাত্রনেতা শাহজালাল মিশন ও সাবেক ছাত্রনেতা আফজাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জেলা যুবদলের কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লায়ন আলমগীর আলম জুয়েল চাঁদপুরের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত মুখ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কালে ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতি করার কারণে তিনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়