মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩২

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-২৪

মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সহযোগিতা চাই

---------. মো.শরীফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ

গোলাম মোস্তফা
মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সহযোগিতা চাই
ক্যাপশন :সম্ভাব্য প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ বলেছেন, অনাগত প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে বড়ো ক্যান্সার মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণ নির্মূলে আমার পাশে দাঁড়াবেন, আমাকে সহযোগিতা করবেন। তিনি চাঁদপুর পৌরবাসীর প্রতি এই অনুরোধ জানান।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে নিম্নে তাঁর কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোত্থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

পলাশ : দেখুন আপনাকে বলে রাখা উচিত, আমার জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে। জন্মের পর থেকেই দেখেছি আমার বাবা এই শহরের মানুষের সেবায় সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকাবাসীর পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি। তাই আমার ওয়ার্ডবাসীর অনুরোধে আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ?

পলাশ : আমি আপনাকে পূর্বেই বলেছি, জন্মের পর থেকেই দেখেছি আমার পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে এই শহরের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। শিশুকাল থেকে দেখে আমি শিক্ষা নিয়েছি এবং তখন থেকেই জনসেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করি। তাই আমার ওয়ার্ডবাসীর অনুরোধে আমি দেড় যুগ আগে পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করি।

এখানে উল্লেখ করতে চাই, ২০১০ সালে সর্বপ্রথম কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নেই। মার্কা ছিলো ক্যামেরা। পরের দু নির্বাচনে মার্কা ছিলো ডালিম। কিন্তু তখন সীমানা জটিলতার কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ২০১৫ ও ২০২০ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেই। কিন্তু সকলের জানা রয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের দলীয় প্রার্থীকে সিলেকশন করে বিজয়ী ঘোষণা করতো। জনগণের রায়ের প্রতিফলন হতো না। তাই তিনবারের নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার জনগণের রায়ের প্রতিফলনের সময় এসেছে। জনগণের অনুরোধে প্রার্থী হচ্ছি ইনশাল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

পলাশ : দেশের সাধারণ ও সচেতন জনগণ জানেন, সাংবিধানিক কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটি নির্দলীয়ভাবেই হয়। অতএব এটি একটি নির্দলীয় নির্বাচন। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচন করতে হলে একজন প্রার্থীর জন্যে একটি সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী প্রয়োজন। তাছাড়া প্রথমেই বলেছিলাম, আমি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েছি। ছাত্রজীবন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি করি। এই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছি।

যেহেতু রাজনীতি করি, নেতৃত্ব দেই, তাই দলের সমর্থন অবশ্যই আশা করছি। সেটি প্রত্যক্ষ হোক বা পরোক্ষভাবে হোক।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

পলাশ : আমি এই শহরের সম্ভ্রান্ত একটি পরিবারের সন্তান, একটি দলের রাজনীতি করি। নানাভাবে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে জনগণের পাশে রয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে সকলে আমাকে চিনে এবং জানে। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচয় হবার ইচ্ছে আমার নেই। আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকাবাসী বা আমার ওয়ার্ডবাসী আমার সকল কাজের মূল্যায়ন করে তাদের গোপন রায় আমাকে দেবেন এবং আমি বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

পলাশ : আমার নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা শুধু একটি- চাঁদপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভা। এ পৌরসভার নাগরিকদের সকল অধিকার তারা যেনো পায় সেই সুযোগ নিশ্চিত করা। আর নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাইনি। তবে জনগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সুখ দুঃখে পাশে ছিলাম। আমার ওয়ার্ডের শাখা প্রশাখা রাস্তা সংস্কার, সাঁকো তৈরি করে দেয়া, পানি ও গ্যাস সমস্যা, বিভিন্ন গরিব অসহায় মানুষের নানা দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, গরিব অসহায় নারীদের বিয়ে, চিকিৎসা সেবাসহ নানাভাবে দীর্ঘ বহু বছর যাবৎ তাদের পাশে রয়েছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

পলাশ : এই অধিকার আদায়ের জন্যে বিগত ১৭ বছর যাবত আমরা আন্দোলন করে সেটি বাস্তবায়নের জন্যে জনগণের রায় নিয়ে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। অতএব আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছি, এ সরকারের আমলে জনগণের রায়ের প্রতিফলন হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

পলাশ : আমি এবং আমার পরিবার বহু বছর যাবত নানাভাবে এই শহরবাসীর পাশে রয়েছে। আমার বাবা মরহুম সামছুদ্দিন আহমেদ এই পৌরসভার জনগণের রায়ে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তাঁর সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে পৌরবাসীর সেবা করে গেছেন।

আমি নিজেও দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ আমার ওয়ার্ডবাসীর সাথে যে কোনো সময় তাদের ডাকে তাদের প্রয়োজনে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

পলাশ : আমার বাবা চাঁদপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সামছুদ্দিন আহমেদ কিশোর বয়স থেকে আমৃত্যু মানুষের সেবা করে গেছেন। আমিও ব্যক্তি জীবনে তাঁর চিন্তা ও চেতনাকে লালন করে আমৃত্যু মানুষের সেবা করে যেতে চাই। আমি আমার ওয়ার্ডবাসীকে বলতে চাই, অনাগত প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে বর্তমান সমাজের সবচেয়ে বড়ো ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণরূপে নির্মূলে পৌরবাসী আমার পাশে দাঁড়াবেন, আমাকে সহযোগিতা করবেন।

উল্লেখ্য, মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হন। তিনি ১৯৮৮ সালে তৎকালীন চাঁদপুর পৌরসভার ১২, ৯, ১৫নং ওয়ার্ডের অংশ নিয়ে গঠিত ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে উক্ত ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পান। একই সময়ে পৌর যুবদলের সহ-প্রচার সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০০৪ সালে চাঁদপুর পৌর জাসাসের সভাপতি ও জেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৯ সালে ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনবার তিনি উক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

একই সময়ে পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে পৌর বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়