রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫  |   ৩০ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩১

চাঁদপুর-১ আসনে রাজনীতির মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

মো. নাছির উদ্দিন
চাঁদপুর-১ আসনে রাজনীতির মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

গেলো বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। ফলে রাজনৈতিক মাঠে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এ আসনের অতীত রাজনৈতিক চর্চা ছিলো কুক্ষিগত। বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম। যে সকল প্রার্থী ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন অন্যতম। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বহু মামলা-হামলার শিকার হয়েছিলেন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ২০১৮ সালে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কচুয়া উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ও মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। তাঁর সমর্থিত নেতা-কর্মীরাও মাঠে সরব রয়েছেন। তবে এককভাবে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী।

এদিকে কচুয়ায় তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। ৫ আগস্টের পর এখন সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

কচুয়ার রাজনৈতিক নেতাদের অধিকাংশের অবস্থান রাজধানীতে। কেউ প্রবাসে থেকেও ভোটের সময় এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। পটপরিবর্তনের পরে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, তাঁর স্ত্রী মহিলা দলের নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সেটি দল ঠিক করবে। অতীতে আমি নির্বাচিত হয়ে কচুয়াবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে বহু মামলা হামলার শিকার হয়েও আমি এখন পর্যন্ত কচুয়ার জনগণের পাশে আছি এবং থাকবো।

এদিকে ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মিয়াজী বলেন, দুর্দিনে আমি কচুয়ার বিএনপির হাল ধরেছি, এখনো তাদের সাথে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আমার বিশ্বাস, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাকে বিমুখ করবেন না।

প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই ৩১ দফা নিয়ে আমি কচুয়ার জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি দেশ নিয়ে জনাব তারেক রহমানের ভাবনা। জনগণ চাচ্ছে একজন সৎ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ। আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়, আমি কচুয়ায় বিদ্যমান দ্বন্দ্বকে নির্মূল এবং বিএনপির সকল নেতাকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ কচুয়া গড়ে তুলবো।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী বলেন, জামায়াত ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্যে কাজ করছে। কোরআনের আইন বাস্তবায়ন হলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে। তিনি বলেন, সংগঠন থেকে আমাকে কচুয়া-১ আসনের প্রার্থী মনোনীত করেছে। আমি নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি সব সময়ই মানুষকে কোরআনের পথে আহ্বান করছি। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমেদ বলেন, চাঁদপুরের ৫টি আসনের কোনো আসনেই আমাদের দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। জেলা থেকে কেন্দ্রে তালিকা নেয়া হয়েছে। চাঁদপুর-১ আসনেও ৩ জনের নাম দেয়া হয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে নাম প্রকাশ করা হবে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের দলের নিবন্ধন ও প্রতীক পেলে প্রার্থী ঠিক করা হবে। চাঁদপুরের কোনো আসনেই এখন পর্যন্ত কেউ কাজ করছেন না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়