প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০০:০০
অনেক লেখালেখির পর---

বেশি দামে ইলিশ মাছ বিক্রি করায় চাঁদপুর বড়ো স্টেশন মাছঘাটের সিন্ডিকেট-আড়তদার মাছ বিক্রেতাকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে এই অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর হোসেনের নেতৃত্বে এক অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে ইলিশ মাছ ক্রয় এবং বিক্রিতে পাকা ক্যাশ মেমো সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়। জনাব নূর হোসেন জানান, চাঁদপুর শহরের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির প্রধান মাছের বাজার বড়ো স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ মাছের ওপর বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বেশি দামে ইলিশ মাছ বিক্রির অপরাধে 'রিপন মাছের আড়ত'কে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে ইলিশ মাছ বিক্রির জন্যে সকল ব্যবসায়ীকে আইনগত সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যবসায়ী ক্রয়মূল্যের রসিদ দেখিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতি কেজি ক্রয়মূল্যের ওপর তারা ৩০-৫০/ টাকা লাভ করেন। 'নামার' (হাতিয়া, নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনার) ইলিশ প্রতি কেজি ১৪শ’-১৫শ’ টাকা করে এবং লোকাল (চাঁদপুর) ইলিশ প্রতি কেজি ১৭৫০-১৮০০ করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, সকালে ট্রলার বা নৌকা থেকে আসা ইলিশ মাছ ওপেন মার্কেটে নিলাম ডাকা হয়। নিলামে মাছ যে পায় সে প্রতি কেজিতে ২০-৩০ টাকা লাভে ইলিশ মাছ বিক্রি করেন। প্রায় রসিদে দেখা যায়, প্রতি মণ ইলিশ মাছের দাম ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। এই অভিযান পরিচালনা ও অধিক দামে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বিক্রির নেপথ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা।
আমরা চাঁদপুর বড়ো স্টেশন মাছঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান এবং ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান-পরিকল্পনার জন্যে সাধুবাদ জানাই। এমনটির জন্যে এই সম্পাদকীয় কলামে আমরা অনেক লেখালেখি করেছি। আমাদের এই লেখালেখি, নিজস্ব দায়িত্ববোধ, সমকালীন প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে কিংবা অন্য কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর বড়ো স্টেশন মাছঘাটে অভিযান চালিয়েছেন বলে ক্রেতারা বেজায় খুশি। এতে দাম কমবে কিনা সেটা জানি না। তবে ইলিশের প্রকৃত দাম যাচাই হবে, যাতে মিলবে কিছুটা সন্তুষ্টি। সত্যি কথা বলতে কি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিন চাঁদপুর মাছঘাটে অভিযান চালালেও দিনমজুর, বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত তথা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে ইলিশের দাম পৌঁছবে না। ইলিশকে সহজলভ্য ও সুলভ করতে হলে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও জাটকা ইলিশের বেড়ে ওঠার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং গতানুগতিক পদক্ষেপের বাইরে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে ইলিশের উৎপাদন বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। এজন্যে কাগুজে, লোক দেখানো কর্মসূচি ও পরিসংখ্যানের চেয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়কে বহু পূর্বে প্রস্তুতিগ্রহণ, বিশেষ করে সচেতনতা সৃষ্টি ও ব্যাপক জনমত গড়ার বিষয়টিতে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। জাটকা রক্ষায় দুমাসের অভয়াশ্রম ও মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম শুরুর বহু আগে প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে বরং শুরুর কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফলপ্রসূ হয় না। তবে এ সংক্রান্ত বাজেট হালাল(!) করার প্রয়াসই কেবল সম্পাদিত হয়। এতে ইলিশ পুরোপুরি রক্ষা হয় না, তবে অন্য অনেক কিছুই কাগুজে হিসেবে ঠিকই রক্ষা হয়। নূতন বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোক্তাদের এসব ভাবতে হবে। অন্যথায় ইলিশ উৎপাদনে যে লাউ সেটা কদুই থেকে যাবে।