শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

অপরাধী না হলে তিনি ভারতে পালাতে যাবেন কেন?

অনলাইন ডেস্ক
অপরাধী না হলে তিনি ভারতে পালাতে যাবেন কেন?

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের দুটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণে দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ তিন কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সচিব শাহ কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৭ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামালের মোহাম্মদপুরস্থ বাবর রোডের বাসায় ডিএমপির অভিযানে তিন কোটি এক লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট শনিবার রাতে রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস থেকে ডিবি পুলিশের একটি অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, শাহ কামাল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে মহাখালীতে একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে কালো গ্লাসের একটি গাড়ি রাখা ছিল। সর্বশেষ জানা গেছে, তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে তিনি কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা।

শাহ কামালের পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসিরকোট এলাকায়। তাকে নিয়ে জেলাবাসীর অনেক গর্ব ছিলো। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হবার আগে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে যে যে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন, তিনি দেশের জন্যে কতোটুকু করেছেন, সেটার বিবরণ না দিয়ে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, তিনি তার অবস্থান থেকে নিজ এলাকা ও জেলার জন্যে সম্ভাব্য সবটুকু করেছেন। আর সচিব ও সিনিয়র সচিব হয়ে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে নিজ জেলার মন্ত্রীকে পেয়ে অসম্ভব বেশি ক্ষমতাধর হয়ে যান। তারপর তিনি পাহাড়ের ভেতরে, মাঠের মাঝখানে, মানুষের বাড়ির সামনে ও পেছনে, খালবিহীন স্থানে অ্যাপ্রোচ সড়কবিহীন সেতু বানানোর প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে এবং হাজীগঞ্জ সহ অনেক স্থানে সেতু না বানিয়ে বিল তুলে নিয়ে যাওয়ার কাজে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে দুর্নীতির দুর্যোগ তৈরি করেন। আবার ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতায় সেটা কাটিয়ে তিনি ভালোয় ভালোয় অবসরে যান। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকায় কর্মরত ২-৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে তার বিশেষ চাহিদা পূরণে কাজে লাগিয়ে এবং দুর্বল দিকগুলো ঢাকতে ব্যবহার করে তাদেরকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে সহায়তা করেছেন। তিনি আরো কতো কিছুই না করেছেন! টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি নিজ বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থ পর্যন্ত ব্যয় করেছেন। ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের চেয়ে তিনি অপব্যবহার কতোটা করতে পারেন, তার প্রমাণ তার গ্রামের বাড়ির নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখিয়েছেন। তিনি স্কাউটের জাতীয় পর্যায়ের অনেক বড়ো কর্মকর্তা হয়ে শিক্ষার্থীদের শুনিয়েছেন কতো আপ্তবাক্য। সেই তিনিই সর্বশেষ কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ ও বিদেশী মুদ্রা নিজ বাসায় রেখে যেভাবে ফেঁসে গেলেন, ধরা পড়ে রিমান্ডে গেলেন, সেটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। আমাদের কথা হলো, নিজেকে ভালো মানুষ মনে করা ও দাবি করা শাহ কামাল বাহ্যিকভাবে সবার কাছে ধোপদুরস্ত মনে হলেও নিজের বিবেকের কাছে ছিলেন অপরাধী। সেজন্যে তিনি ভারত পালাতে চেয়েছিলেন। কথা হলো, প্রকৃত অপরাধী না হলে কেউ কি এভাবে পালাতে চায়?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়