প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
ফরিদগঞ্জের পর এবার শাহরাস্তিতে---!

‘ফরিদগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ককটেলসহ টিসিবির পণ্য জব্দ’ শিরোনামে চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে নুরুল ইসলাম ফরহাদ লিখেছেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ খানের বাড়ি থেকে ককটেল, সরকারি কম্বল ও ভিজিডি চাল, টিসিবির চাল, ডাল, তেল ও চিনি জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর একটি দল ওই চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন একটি গুদামঘর থেকে ৫০ পিচ ককটেল, সরকারি ২২০ পিচ কম্বল, ভিজিডির ৯০০ কেজি চাল, টিসিবির ১২০০ কেজি চাল, ৮০ কেজি ডাল, ৭২ লিটার সয়াবিন তেল ও ৫ কেজি চিনি জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ আর এম জাহিদ হাসান বলেন, চেয়ারম্যান শরীফ খানের বাড়ি থেকে জব্দকৃত মালামাল ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদিরসহ স্থানীয় বাসিন্দাসহ আরো অনেকেই বলেন, চেয়ারম্যান শরীফ খান সরকারি মালামাল সঠিকভাবে বন্টন না করে নিজেই আত্মসাৎ করতো। সরকারি চাল তার মাছের খামারে ব্যবহার করে ও ডাল, তেল, চিনি চেয়ারম্যানের হোটেলে ব্যবহার করে। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা ও মারধর করা হয়।
ফরিদগঞ্জের পর শাহরাস্তিতেও পাওয়া গেছে চালের মওজুদ। এ বিষয়ে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে 'শাহরাস্তি পৌরসভা ভবনে চালের গুদামের সন্ধান' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে লিখা হয়েছে, শাহরাস্তি পৌরসভার একটি কক্ষে চালের গুদামের সন্ধান মিলেছে। দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে এমন ভবনের কক্ষে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মওজুদকৃত ওই খাদ্যসামগ্রী নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পৌর ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশে ডাবল তালা লাগানো একটি কক্ষের জানালা দিয়ে এসব খাদ্যসামগ্রী দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় উৎসুক লোকজন ভবনের পশ্চিম পাশে এসব বস্তা দেখতে উঁকি দিচ্ছেন। উৎসুক জনতার দাবি, গত কোরবানি ঈদের সময়ে বরাদ্দকৃত দরিদ্রদের চাল বিতরণ না করে এখানে মজুদ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার এ কক্ষ খালি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের তৎপরতার কারণে সম্ভব হয় নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর মেয়র হাজী আবদুল লতিফের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায় নি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ শেখ এ বিষয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রথমে জানিয়েছেন, এগুলো তাদের ক্রয়কৃত চাল। পরে নিজের বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে বলেন, সময়ের অভাবে এ চালগুলো বিতরণ করা সম্ভব হয় নি। যার নেপথ্যে কাউন্সিলরদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, কক্ষের ভেতর রাখা চালের বস্তাগুলো যাতে কেউ সরিয়ে নিতে না পারে সেজন্যে একজন কাউন্সিলর আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তির এ দুটি ঘটনায় আমাদের এমন ধারণা জন্মেছে যে, ব্যাপক অনুসন্ধানে আরো ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা ভবনে খাদ্যদ্রব্যের এমন মওজুদ মিলতে পারে। সরকার সোশ্যাল সেফটি নেট (সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী)-এর আওতায় যতোগুলো উদ্যোগ নিয়েছে, তার সব ক'টিতে কিছু অসৎ প্রকৃতির জনপ্রতিনিধি (যেমন-পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার)-এর লোভাতুর দৃষ্টি পড়েই। দরিদ্র না হওয়া সত্ত্বেও দলীয় লোক, ঘনিষ্ঠজন ও আত্মীয় স্বজনকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে আনার জন্যে চেষ্টা করেন না এমন জনপ্রতিনিধি খুঁজে পাওয়া মুস্কিলই বটে। তারপরও দরিদ্র মানুষের খাদ্য সামগ্রী ওজনে কম দেয়া, কাউকে কাউকে একেবারে না দিয়ে সেটি আত্মসাৎ করার প্রয়াসে লিপ্ত হন কোনো কোনো জনপ্রতিনিধি। ফরিদগঞ্জের উল্লেখিত ইউপি চেয়ারম্যান যে আত্মসাৎ-কাণ্ড ঘটিয়েছেন, সেটি প্রাথমিকভাবে অনেকটাই ধারণা করা যায়। কিন্তু শাহরাস্তি পৌরসভা ভবনে মওজুদকৃত চালগুলো কোন্ খাতের সেটি আপাতত স্পষ্ট ধারণা করা না গেলেও এগুলো যে দরিদ্র পৌর নাগরিকদের মধ্যে বিতরণযোগ্য সেটি আন্দাজ করা যায়। আমরা এর পেছনে জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা প্রশাসন থেকে সম্পৃক্ত করা কর্মকর্তারও গাফলতি ও কোনো সুবিধার বিনিময়ে অনিয়মের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে চাই। আশা করি নিরপেক্ষ ও নিবিড় তদন্তে প্রকৃত সত্যই বেরিয়ে আসবে।