প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
নিরাপত্তার এমন দায়িত্ব পালন প্রশংসনীয়

গত ৫আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহযোগী সংগঠন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাজীগঞ্জ মধ্যবাজারে শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, করিম বাগানস্থ শ্মশান, পশ্চিম বাজারের আশ্রম, বাজারের স্বর্ণকার পট্টি, কাপড়িয়া পট্টি, থানা, ডাকবাংলোসহ পুরো হাজীগঞ্জ বাজারে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা হয়। এ ব্যাপারে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে বক্স আইটেমে প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদ।
সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের সাথে রাতে সাক্ষাৎ করে থানার খোঁজখবর নেন। নিরাপত্তা টিমে ছিলেন
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসাইন, সহ- সভাপতি মাওলানা ফয়সাল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন মিয়াজী মাসুম, সহ- সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফয়জুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি সানাউল্লাহ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নুরে আলম সিদ্দিকী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আক্তার হোসেন আকন, উপজেলা আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক কামাল গাজী ও উপজেলা ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। আরো ছিলেন হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, আব্দুর রহমান স্যার, সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদুজ্জামান, মাহদী, আব্দুল্লাহ গাজীসহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।দেশের এই সঙ্কটকালের শুরু থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশে তারা দিনের বেলায় রাস্তায় যানজট নিরসনে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, জনজীবনের শান্তি ও স্বস্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক টিম এই দায়িত্ব পালন করে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক দল হলেও দেশের অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম। গতানুগতিকতার বাইরে কাজ করার প্রয়াস তাদের মাঝে দেখা যায়। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী করোনা শুরুর পর করোনায় মৃত্যুবরণকারীর লাশ দাফন নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশে এগিয়ে আসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা। চাঁদপুরে তো হাসপাতাল থেকে লাশ সংগ্রহ, গোসল, কাফন পরানো, জানাজা ও দাফন কাজের দায়িত্বের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং জেলা সভাপতি। করোনায় হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের লোকজনের শেষকৃত্যেও তারা সহযোগিতা করেন। এতে সৃষ্টি হয় আলোড়ন। এবার পুলিশের কর্মবিরতি চলাকালে দেশে সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজীগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ও দেশের অনেক স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর পাহারা দিয়েছে, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছে। অবশ্যই এমন কাজ প্রশংসনীয় এবং সমকালের দাবি পূরণে খুবই সঙ্গত।