প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এক্ষণে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধই দরকার

পুলিশের কর্মবিরতি চলায় থানা ও ফাঁড়িতে ছিলো না পুলিশ। সেনা সহায়তায় সীমিত পরিসরে থানাগুলোর কার্যক্রম শুরু হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাখতে পারছে না যথাযথ ভূমিকা। এ সুযোগে কিছু দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে ও গোপনে চালিয়েছে ও চালাচ্ছে নৈরাজ্য। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটপাট সহ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রোশে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালিয়েছে ও চালাচ্ছে হামলা। যাদের সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতায় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, তাদের মধ্যে ত্যাগী ও কারা নির্যাতিতরা পর্যন্ত এমন নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করে কোথাও কোথাও দুর্বৃত্তদের হাতে মার খাচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে। এমন একটি স্থান হচ্ছে ফরিদগঞ্জের গোয়ালভাওর। সেখানকার সচেতন ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের সমর্থনে ও সহযোগিতায় নৈরাজ্যের প্রতিবাদে অগত্যা মাঠে নেমেছে। তারা লাঠি মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ ঘটনায় গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী চলমান অস্থিরতার সুযোগে সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাঠি মিছিল করেছে ফরিদগঞ্জের গোয়ালভাওর বাজারের ব্যবসায়ীরা। গত শনিবার বিকেলে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাজারটিতে এই লাঠি মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর গোয়ালভাওর বাজারে কিছু সন্ত্রাসী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। তারা কিছু ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা লাঠি নিয়ে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিএফসি মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আলী হোসেন মিজি, ব্যবসায়ী নেতা মঞ্জিল হোসেন, মোঃ আলী ও সোহেল বেপারী। তারা অভিযোগ করে বলেন, নৈরাজ্যবাদীরা বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। তাই তারা একত্রিত হয়েছেন। বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা এখন দলমত নির্বিশেষে একত্রে কাজ করবেন। চুরি-ডাকাতি রোধে পাহারার ব্যবস্থা করবেন। তারা বলেন, গোয়ালভাওর বাজারে শত শত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা করছে। আমরা কিছু নৈরাজ্যবাদীর জন্যে কোনোভাবেই এই সুনাম ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না। যে যেই দল করুক না কেন, এই বাজারে সকলের পরিচয় ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যেই জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি থেকেও গোয়ালভাওর বাজারের কোনো ব্যবসায়ী যাতে লাঞ্ছনার শিকার না হন, তার জন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্যে বলা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও কিছু দুষ্কৃতকারী নিজেদের ব্যক্তিগত বিরোধকে পুঁজি করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমরা ব্যবসায়ীরা আর এসব হতে দিবো না। এখন থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবো। এছাড়া বাজারের রাত্রিকালীন পাহারার জন্যে ব্যবাসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে বাড়তি পাহারার ব্যবস্থা করেছে।
আমরা গোয়ালভাওর বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের প্রয়াসকে সময়োচিত বলে মনে করছি। এমন প্রয়াস চাঁদপুর জেলা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা আশাব্যঞ্জক। আমাদের বিশ্বাস, থানাগুলোর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু না হলে এবং পুলিশ পূর্ণোদ্যমে কাজ না করলে এমন স্বেচ্ছা-স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ দেশের সর্বত্র সময়ের প্রয়োজনে অনেক দেখা যাবে। কেননা এমনটি শান্তি ও সুরক্ষার প্রশ্নে এক্ষণে খুবই দরকার।