প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতির ইন্তেকালে শোক

সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদপুর জেলাবাসী অনেক কৃতী সন্তানকেই হারিয়েছে। এই হারানোর তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছেন মোঃ রেজ্জাকুল হায়দার খোকন। তিনি ছিলেন চাঁদপুর জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি। তিনি গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি ২ মেয়ে এক ছেলেসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা না থাকলে কিংবা নিজের খেয়ে বোনের মোষ না তাড়ালে কেউ সাধারণত সমাজসেবক হতে পারে না। আর সমমনা সমাজসেবকরা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে সংগঠন গড়া যায় না। এমন সংগঠন কে সাধারণত বলা হয় সমাজসেবামূলক সংগঠন। এই সংগঠনের একটি বহুমাত্রিক রূপ হচ্ছে বেসরকারি সংগঠন (নন গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন-এনজিও)। এমন সংগঠন কয়েক দফা নিবন্ধন নিয়ে সমাজসেবার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিজস্ব তহবিল সহ দেশী-বিদেশী অনুদানে কাজ করে থাকে। এই কাজ সঠিকভাবে করা নিতান্তই সহজ নয়। বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতা অনুধাবন করে, নানা জরিপ ও পর্যবেক্ষণ করে, সমাজের চাহিদা নির্ণয় করে কাজ করতে গেলে অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয়, ঝামেলা পোহাতে হয়, তৃণমূলের মানুষের সাথে মিশে যেতে হয়, কটুকথা শুনতে হয়। তারপর আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। এমন সাফল্য করায়ত্ত করা একজন মানুষই ছিলেন রেজ্জাকুল হায়দার খোকন।
চাঁদপুর জেলার একেবারে প্রত্যন্ত এলাকা হাইমচরের চরভৈরবী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তর বগুলা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী রেজ্জাকুল হায়দার খোকন শৈশব থেকে দেখে এসেছেন নদী ভাঙ্গনগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা, দারিদ্র্য সহ নানান বিপন্নতা। সে কারণে তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন, আর গড়ে তোলেন সমাজসেবামূলক সংগঠন ও এনজিও।প্রতিষ্ঠা করেন রাজ্জাক ফাউন্ডেশন। তিনি মোল্লাকান্দি যুবকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। অন্যকে সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি সংগঠন গড়ায় অকৃপণভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, পথনির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ফরিদগঞ্জের বিখ্যাত এনজিও আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। পদ-পদবী ছাড়া আরো অনেক এনজিওকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি জেলার সকল এনজিও সংগঠক ও কর্মীদের অধিকাংশের কাছে ছিলেন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। যে কারণে তিনি এনজিও কার্যক্রমের পথিকৃৎ হিসেবে মূল্যায়ন পেয়ে চাঁদপুর জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হন ও মর্যাদার সাথে সে পদে বহাল থাকেন।
রেজ্জাকুল হায়দার খোকনের মৃত্যুতে নিশ্চয়ই চাঁদপুর জেলা এনজিও ফেডারেশন কম-বেশি ধকল খেয়েছে বা খাবে। তাঁর শূন্য পদ হয়তো বেশিদিন খালি থাকবে না। তবে তাঁর কথা মনে থাকবে অনেক বেশিদিন। আমরা তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর জেলাবাসীর পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করছি, তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।