শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

এমন মার্কেট নির্মাণ ঠেকাতেই হবে

অনলাইন ডেস্ক
এমন মার্কেট নির্মাণ ঠেকাতেই হবে

সুনির্দিষ্টভাবে নাম বললে মালিকগণ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তাই নামোল্লেখ না করেই বলছি, চাঁদপুর শহর ও শহরতলীতে এবং হাজীগঞ্জ বাজারে এমন বড়ো পরিসরে কিছু মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে, যেগুলো দশক ও যুগ পেরিয়ে যাবার পরও পুরোপুরি জমছে না। অথচ দোকান মালিকদের থেকে অগ্রিম নিয়ে এ মার্কেটগুলো নির্মাণের খরচ মিটিয়েছে মার্কেট মালিকরা। দোকান জমাতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত কতো মালিক যে লস্ দিয়ে মালিকানা হস্তান্তর করে চলছে, তার তালিকা অনেক দীর্ঘ। এমন বাস্তবতায় কিছু লোক প্রয়োজনীয়তা অনুভব না হওয়া সত্ত্বেও নূতন মার্কেট বানাবার ধান্ধায় লিপ্ত থাকে সব সময়। চাঁদপুরে ধান্ধাবাজ এমন উদ্যোক্তাদের ক’জনের নাম সম্প্রতি জানা গেছে বিশ্বস্ত সূত্রে। এ বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদ, যার শিরোনাম হয়েছে-‘অশুভ চক্রের তৎপরতায় শহীদ মিনার সংলগ্ন মার্কেট হচ্ছে ॥ এ ধরনের চক্রান্ত রুখে দেয়ার সিদ্ধান্ত জেলা সমন্বয় সভায়’।

সংবাদটিতে লেখা হয়েছে, একটি অশুভ চক্র চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন স্থানে মার্কেট করার সকল আয়োজন শেষ করেছে। এখন শুধু নির্মাণ কাজে হাত দেয়া বাকি। কিন্তু না। জনস্বার্থ বিরোধী এ ধরনের কাজ করতে দেয়া হবে না। সম্প্রতি জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর শহরের প্রধান সড়ক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক লাগোয়া রেলওয়ে লেকের পশ্চিম পাশে এবং চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পূর্ব পাশে রেলওয়ের কিছু খালি জায়গা রয়েছে। এক সময় এ জায়গাটি বেবী ট্যাক্সি ও পরবর্তীতে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এখানে বহু ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়েছে, যারা ভ্যান গাড়িতে বাচ্চাদের পোশাকসহ রকমারি জিনিস বিক্রি করেছে। এ জায়গাটির প্রতি কুনজর পড়েছে চাঁদপুরের ভূমিলিপ্সু একটি অশুভ চক্রের। তারা এ জায়গাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ফন্দি এঁটেছে। তারা ত্রিশের অধিক দোকান নির্মাণের প্ল্যান করে বহুতল মার্কেটের ডিজাইনও অনুমোদন করে ফেলেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত এ খবর উত্থাপন করা হয় চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়।

সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ মিনারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাথে মার্কেট কোনোভাবেই হতে পারে না। শহীদ মিনারের আশেপাশে খোলামেলা জায়গা থাকাটাই এর সৌন্দর্য এবং স্বস্তির বিষয়। পৌরসভার উদ্যোগে শহীদ মিনারকেন্দ্রিক এর আশপাশ নান্দনিক করাটাই হবে যথোপযুক্ত কাজ। এছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা বা বহুতল ভবন কারাটা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। সভায় ব্যাপক আলোচনার পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, রেলওয়ের এই জায়গায় কোনো মার্কেট বা বহুতল স্থাপনা করতে দেয়া হবে না। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার এই সিদ্ধান্ত রেজুলেশন আকারে রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হবে।

আমরা চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কেননা উল্লেখিত জায়গাটির পাথর নিক্ষেপ দূরত্বে অবস্থিত চাঁদপুরের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, যেখানে তিন শতাধিক দোকান রয়েছে। এ মার্কেটটি সর্বশ্রেণির ক্রেতাদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এমতাবস্থায় এ মার্কেটটির অতি নিকটে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও আরেকটি মার্কেট নির্মাণ করা অযৌক্তিক। আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে চাঁদপুর শহীদ মিনার লাগোয়া পূর্ব পাশে বহুতল মার্কেট নির্মাণে লীজ বাতিলে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্মর্তব্য, জেলা প্রশাসনের বারণ এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজের প্ল্যান পাস করা না হলে এখানে মার্কেট ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। অতএব মার্কেটের উদ্যোক্তা ও ভূমি লীজ প্রদানকারীর দ্রুত শুভবুদ্ধির উদয়ে মার্কেট নির্মাণে বিরত থাকাটাই বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়