শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান

অনলাইন ডেস্ক
কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান

আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট কাজী হাবিবুর রহমান। তাঁকে যদি কিংবদন্তী বলা হয়, তাহলে কিছুটা বাড়িয়ে বলা হবে। তবে তিনি তাঁর শিক্ষা, আদর্শিক চেতনা ও সামগ্রিক কর্মযজ্ঞে নিজ এলাকায় কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। অবয়বগতভাবে তিনি ছিলেন যেমন সৌম্য ও শোভন, আচরণেও তা-ই। ১৯৩৯ সালের ৩১ মার্চ তিনি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলাধীন উয়ারুক রেল স্টেশনের নিকটস্থ আলীপুর গ্রামের বিখ্যাত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর স্বল্প সময়ে স্নাতক ডিগ্রি ও এলএলবি পাস করে ১৯৬৪ সালে কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভীষণ সক্রিয় থাকেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদের দ্বিমাত্রিক অভিধায় তিনি তৎকালীন বৃহত্তর হাজীগঞ্জ থানায় এক আলোচিত ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। পেশাগত ব্যুৎপত্তি, জ্বালাময়ী ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ না করা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণ বিচ্যুত না হওয়াসহ আরো কিছু বহুমাত্রিক কারণে তিনি নিজ এলাকায় কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সুনামণ্ডসুখ্যাতিতে যুগের পর যুগ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে তাঁর নাম।

১৯৮৪ সালে চাঁদপুর মহকুমা চাঁদপুর জেলায় রূপান্তরিত হলে কাজী হাবিবুর রহমান কুমিল্লা ছেড়ে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। অথচ ততক্ষণে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে চারবার সাধারণ সম্পাদক ও বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বপালনসহ কুমিল্লাকেন্দ্রিক নানা কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততায় তিনি আবর্তিত হচ্ছিলেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিলো তাঁর নিজ জেলা চাঁদপুর ও বাবা-মা’র স্মৃতিধন্য প্রিয় শাহরাস্তি উপজেলা। সেজন্যে কুমিল্লার সোনালী অধ্যায়ে ছেদ ঘটিয়ে তিনি চলে আসেন চাঁদপুর এবং এখানে রচনা করেন আরেক সোনালী অধ্যায়। তিনি আইন বিষয়ে শিক্ষকতা ও ব্যাপক পেশাগত দক্ষতাহেতু চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির প্রায় সদস্যের নিকট ছিলেন ভীষণ শ্রদ্ধেয় এবং অধিকাংশজনের নিকট অভিভাবকতুল্য।

কাজী হাবিবুর রহমান শাহরাস্তি উপজেলার আলোকিত মানুষদের মধ্যে যাঁরা তারকাসম, নিঃসন্দেহে তাঁদের একজন। এই উপজেলার শুধু নয়, চাঁদপুর জেলার সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দিতে যাঁদের অবদানকে অসামান্য বলতেই হবে, সেখানে কি কাজী হাবিবুর রহমানের নামটি বাদ দেয়া যাবে?-নিশ্চয়ই নয়।

সেই কাজী হাবিবুর রহমান আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি গেলো জুলাই মাসের ৩০ তারিখ সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তাঁর ৬০ বছরের উকালতি পেশার অবসান ঘটান। ঢাকায়, চাঁদপুরের আদালত প্রাঙ্গণ ও নিজ এলাকায় তিনটি জানাজা শেষে ৩১ জুলাই ২০২৪ বুধবার বিকেল তিনটায় তাঁকে আলীপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

আমরা আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট কাজী হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে জেলাবাসীর পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করছি, তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়