প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
‘একটু খানি ভুলের তরে অনেক বিপদ ঘটে’

বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন আবুল হোসেন মিয়া (১৯২০-১৯৯৮)। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত তাঁর ছড়া-কবিতার বই ‘একটু খানি’। এই বইয়ের ‘একটু খানি’ ছড়াটিই অনেক বিখ্যাত, যেটি একসময় বাংলা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এই ছড়ার চারটি লাইন হচ্ছে এমন-‘একটু খানি ভুলের তরে অনেক বিপদ ঘটে/ভুল করেছেন যারা সবাই ভুক্তভোগী বটে/একটু খানি বিষের ছোঁয়া মরণ ঢেকে আনে,/এই দুনিয়ার ভুক্তভোগী সকল মানুষ জানে’।
গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা দারুস সুন্নাত মোহাম্মদিয়া আয়েশা হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একটু খানি ভুলের তরে একজন ছাত্র মারা গেছে এবং আরেকজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি নির্মাণকালে দেয়াল ঘেঁষে বিদ্যুতের তার রাখার বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কাভার দেয়া বিদ্যুতের তারের ব্যবস্থা করেনি। ভেবেছিলো, এতে কীই বা হবে। অবশেষে অনেক কিছুই তথা অনেক বিপদ ঘটে গেলো। গত ২৮ জুলাই রোববার বিকেলের ঘটনা। মাদ্রাসাটির নাজারা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন হোসেন (১২) ও আবদুল্লাহ (১০) মাদ্রাসার ছাদে থাকা শুকানো কাপড়-চোপড় আনতে যায়। এ সময় তাদের চোখ পড়ে পাশর্^বর্তী কদম গাছের ফুলের প্রতি। এই ফুল সংগ্রহের লোভে ইমন ছাদে থাকা লোহার বড় রড বাইতে গেলে রডটি দেয়াল সংলগ্ন খোলা বিদ্যুতের তারে লেগে যায়। সাথে সাথেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইমন মারা যায়। আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হয়। ঘটনা দেখে ডাক-চিৎকার দেয় মাদ্রাসার অপর শিক্ষার্থী রহিম হোসেন। এ সময় পাশর্^বর্তী লোকজন ছুটে এসে ইমনকে মৃত অবস্থায় এবং আবদুল্লাহকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ইমন ছিলো তার বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে যে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করলো সেটি অন্যান্য শিক্ষার্থীর অভিভাবক, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রতিবেশী, এমনকি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতিও স্বীকার করেছেন। এজন্যে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কোনোভাবেই তার দায় এড়াতে গিয়ে দেশের সাবেক এক মন্ত্রীর মতো বলতে পারবেন না ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে’। ভুলের জন্যে কম-বেশি শাস্তির মুখোমুখি তাকে হতেই হবে।
বলা প্রয়োজন, আমাদের দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শহরে এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গ্রামে তদারকির কাজটি হয় জনবল সঙ্কট কিংবা উদাসীনতার কারণে বা অন্য কোনো কারণে করে না বললেই চলে। ভবন নির্মাতারা নিকটস্থ বিদ্যুতের খোলা তারের দিকে খেয়াল না রেখেই কিংবা বিদ্যুতের তারকে পারলে ভবনের ভেতরে রেখেই নির্মাণ কাজ করতে থাকে। কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে না জানালে ভবন নির্মাতারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে থাকে। এতে হয় নির্মাণ শ্রমিকরা মারা যায় কিংবা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমনটি ফরিদগঞ্জের ষোলদানায় হয়েছে। এই ঘটনা থেকে ভবন নির্মাতাদের যেমন শিক্ষা নিতে হবে, তেমনি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকেও তদারকির ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে বলে আমরা মনে করি।