শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪, ০০:০০

মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট কি বন্ধ হবে না?

অনলাইন ডেস্ক
মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট কি বন্ধ হবে না?

চাঁদপুর শহরের কিছু এলাকায় এবং জেলার কিছু স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট থেমে থেমে প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যায়। এরা সুযোগ সন্ধানী। যখন পুলিশ নির্বাচন ও দেশের অন্য কোনো পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখনই মাদক ব্যবসায়ীরা চাঙ্গা হয়ে উঠে এবং অপতৎপরতা চালায়, যেটি সীমা লঙ্ঘন করে ব্যাপকভাবে। খোদ চাঁদপুর শহরে এমন অপতৎপরতার ঘটনা ঘটলো গত শুক্র ও শনিবার। এ নিয়ে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদ।

প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনাম হয়েছে ‘বড় স্টেশন ক্লাব রোডে মাদক বেচাকেনা নিয়ে দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ’। এ সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকায় মাদক বিক্রেতা দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে এক দফা এবং শনিবার সন্ধ্যার পর দুই দফা সংঘর্ষ হয়। মাদক বেচাকেনা নিয়েই তাদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয় বলেই স্থানীয়রা জানান।

জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকাটি মাদকের অন্যতম স্পট। এখানে দিনে রাতে সবসময়ই মাদক বেচাকেনা হয়। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু যুব নেতা এসব মাদক বিক্রেতাকে এখানে শেল্টার দেন। শনিবার সন্ধ্যার পর পর দুদফা সংঘর্ষে জড়ায় ঈমান, সাহেদ, সাকিব, ফয়সাল ও রাসেলসহ আরো কিছু মাদক ব্যবসায়ী। সংঘর্ষের সময় তারা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। তারা স্থানীয় দোকান ও রাস্তায় চলাচলকারী অটোবাইকে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ দুবার ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

চাঁদপুর বড় স্টেশন ক্লাব রোডসহ সংলগ্ন আরো কিছু স্থানে এবং পুরাণবাজার এলাকার চিহ্নিত কিছু স্থানে মাদক বিক্রেতাদের ওপেন সিক্রেট দাপট দশকের পর দশক, যুগের পর যুগ ধরে চলছে। এই দাপট পুলিশ দমাতে পারছে না-এটা অকপটে বলা যায়। এখানে কমিউনিটি পুলিশিং/বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা যায় না এই মাদক বিক্রেতাদের কারণে।

পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না-এ কথা বলার অবকাশ নেই। চোরের গৃহস্থ পাহারা দেয়ার মতোই এবং কাউকে কাউকে ম্যানেজ করেই চাঁদপুর শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানের মাদক বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা ও দাপট বজায় রেখে চলছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।

মাদকের ব্যাপারে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স কথাটি শুনতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু বাস্তবে মাদক নির্মূল দূরের কথা, মাদক নিয়ন্ত্রণ করার রুটিন কাজ পুলিশও করতে পারে না, আর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তো নয়ই। চাঁদপুর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে তো সর্ষের মধ্যে যথেষ্ট ভূত থাকার প্রামাণ্য কিছু আছে এবং সেমতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গৃহীত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করেছিলো, এই ভূত তাড়াবার কম/বেশি প্রয়াসে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হবে। কিন্তু তাদের আশানুরূপ সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না কিংবা গণ্যমাধ্যমে আসছে না। কারণ যেটাই হোক, বাস্তবে মাদক বিক্রেতাদের দাপট কিন্তু কমছে না। পুরোপুরি বন্ধ হওয়াতো সুদূর পরাহত বিষয়।

এটা তিক্ত হলেও বলতে হয় যে, আমাদের সমাজে মাদক বিক্রেতারা কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তাদের দাপট বজায় রাখতে যতো কিছু করার দরকার, তার সবটাই করে। সে কারণে এমন নেতৃবৃন্দ মাদকবিরোধী তৎপরতাকে ধারাবাহিক না করে বিক্ষিপ্ত করতে জায়গা মতো তদবির করে। এই তদবিরেই মাদক বিক্রেতাদের তকদির ঠিক থাকে এবং সেহেতু দাপটও অটুট থাকে। কথা হলো, এই তদবির ঠেকাবার উপায় কী? তদবিরকারীদের প্রকাশ্যে প্রতিহত করার মতো কোনো ফোর্স দেখা না গেলেও এদের গোপন তালিকা উপযুক্ত স্থানে পাঠাবার গোয়েন্দা তৎপরতা কি চালানো যেতে পারে না?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়