প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪
সাদ্দাম হোসেন মিঠুকে অভিনন্দন

ক্রীড়ার প্রতি ভালোবাসা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর নিরলস পরিশ্রম যে একজন মানুষকে সাফল্যের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ক্রিকেট সংগঠক সাদ্দাম হোসেন মিঠু। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সূচীপাড়ায় ক্রিকেটের বিকাশে তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আজ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ নিঃসন্দেহে তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা, শ্রম ও আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে সাদ্দাম হোসেন মিঠুকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলা, প্রতিভাবান তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং তাদের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরার উপযোগী করে গড়ে তোলা মোটেও সহজ কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সংকট, সাংগঠনিক জটিলতা এবং প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা অতিক্রম করে সূচীপাড়ায় শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং এর মাধ্যমে উদীয়মান ক্রিকেটারদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা মিঠুর ক্রিকেটপ্রেম, দূরদর্শিতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে। তাঁর একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ঢাকার স্বনামধন্য ক্লাবে খেলার সুযোগ লাভ এই উদ্যোগের কার্যকারিতারই প্রমাণ।
তবে মিঠুর উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও দুঃসাহসিক দিক হলো ‘শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ’ আয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে এমন একটি প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সাংগঠনিক দক্ষতানির্ভর কাজ। শুধু মাঠে খেলা আয়োজন করলেই হয় না; প্রয়োজন অর্থের সংস্থান, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা, পৃষ্ঠপোষক সংগ্রহ, দর্শকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি যে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করে চলেছেন, তা সত্যিই অসামান্য। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, তারকা পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা এই আয়োজনকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করেছে।
মিঠুর এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল ক্রিকেটের প্রসারেই সীমাবদ্ধ নয়। মাদক, হতাশা ও নানা সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রিকেটের প্রতি তরুণদের আগ্রহকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করে তিনি যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। একটি ক্রিকেট একাডেমি কিংবা একটি প্রিমিয়ার লিগ তাই নিছক ক্রীড়া আয়োজন নয়; এটি তরুণদের স্বপ্ন দেখানো, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও একটি প্রয়াস।
প্রবাদ আছে, ‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে।’ সাদ্দাম হোসেন মিঠুর অর্জন সেই প্রবাদকেই যেন নতুন করে সত্য প্রমাণ করেছে। দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ তাঁর কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এই অর্জন প্রমাণ করে, রাজধানীকেন্দ্রিকতার বাইরে থেকেও আন্তরিকতা, পরিকল্পনা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব।
আমরা আশা করি, এই সম্মাননা মিঠুকে আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং তাঁর হাত ধরে শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি ও প্রিমিয়ার লিগ আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ক্রীড়া সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা তাঁর উদ্যোগের পাশে দাঁড়াবেন, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আরও প্রতিভাবান ক্রিকেটার যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পায়। সাদ্দাম হোসেন মিঠুর এই অর্জন শাহরাস্তির গর্ব, সূচীপাড়ার অনুপ্রেরণা এবং দেশের তৃণমূল ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা। তাঁর প্রতি রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা আরও বহু তরুণের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করুক—এই প্রত্যাশাই আমাদের।





