বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৬

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

মক্কায় প্রত্যাবর্তন

প্রসঙ্গ : দাদা আবদুল মোত্তালিব-এঁর প্রতিপালনে কিশোর নবী (দ:)

অনলাইন ডেস্ক
মক্কায় প্রত্যাবর্তন

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয় বৎসর বয়সে নবী করীম (দ:) মায়ের বুক হারান। বিবি আমেনাকে (রা:) আবওয়া নামক স্থানে দাফন করে উম্মে আয়মন (রা:) কিশোর নবীকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন। মায়ের অসিয়ত অনুযায়ী নবী করীম (দ:) উম্মে আয়মনকে (বারাকাহ) মা বলে সম্বোধন ও সম্মান করতেন এবং বলতেন-“আমার মায়ের ইন্তেকালের পর উম্মে আয়মনই আমার মা।”

পরবর্তীকালে বিবি খাদিজার (রা:) সাথে হুযুরের বিবাহের পর উম্মে আয়মনকে আযাদ করে দিয়ে নবী করীম (দ:) নিজ পালিত পুত্র (বিবি খদিজার (রা:) কর্তৃক দানকৃত গোলাম) যায়েদ ইবনে হারেছা (রা:)-এঁর সাথে তাঁকে দ্বিতীয়বার বিবাহ দেন। সে ঘরে উসামা ইবনে যায়েদ (রা:) জন্মগ্রহণ করেন। নবী করীম উসামা (রা:)-কে আপন নাতিতুল্য আদর করতেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি আপন উটের পিছনে যুবক উসামাকে (রা:) বসিয়েছিলেন। নবী করীম (দ:) ইন্তেকালের পূর্ব মূহুর্তে উসামা (রা:) -কে সেনাপতি করে এক অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন-৮ম হিজরীতে সংঘটিত মুতার যুদ্ধের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে। কিন্তু‘ নবীজির শেষ অবস্থার সংবাদে পথিমধ্য হতে উসামা (রা:) মদীনায় ফিরে আসেন। হযরত আবু বকর (রা:) খলিফা নিযুক্ত হয়ে রবিউল আউয়াল মাসের শেষের দিকে উসামার (রা:) নেতৃত্বে স্থগিত অভিযানটি পুনরায় প্রেরণ করেন। যুদ্ধে রোম বাহিনীকে পরাজিত করে মুতার যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়ে এবং বিপুল পরিমাণ গণিমতের মাল নিয়ে তিনি মদীনায় ফিরে আসেন। এই বিজয়ে মুসলমানদের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চয় হয়েছিল এবং পরবর্তী অভিযানসমূহে এই বিজয় বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল।

মক্কায় ফিরে আসার পর নবী করীম (দ:)-এঁর লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দাদা আবদুল মোত্তালিব। দু’বৎসর দাদার আপত্যস্নেহে লালিত পালিত হয়ে ৮ বৎসর বয়সে নবী করীম (দ:) দাদার ছায়া থেকেও বঞ্চিত হন। আবদুল মোত্তালিব আপন নাতি কিশোর নবীকে কতো ভালোবাসতেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন ইবনে কাছির তাঁর বেদেয়া ও নেহেয়া গ্রন্থে’। খানায়ে কা’বার মোতাওয়াল্লী হিসেবে আবদুল মোত্তালিবের ছিল বিরাট প্রতাপ। হেরেম শরীফের চত্বরে আবদুল মোত্তালিবের জন্য ফরাশ বিছানো-হতো। কিন্তু‘ কিশোর নবী দাদার আগমনের পূর্বেই এসে ঐ ফরাশে বসে যেতেন। আবদুল মোত্তালিবের আগমন হলে হুযুরের চাচাগণ তাঁকে টেনে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করত। কিন্তু‘ আবদুল মোত্তালিব তাদেরকে বারণ করতেন এবং নবী করীম (দ:)-এঁর পিঠে হাত বুলিয়ে নিজের কাছে টেনে নিতেন আর বলতেন- ”মুহাম্মদ (দ:)-এঁর মর্যাদা অনেক অনেক উঁচু হবে।” আবদুল মোত্তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে একদিন উম্মে আয়মনকে ডেকে বললেন-”হে বারাকাহ, আমার এই সন্তানের যত্ন করতে তুমি ভুলে যেয়ো না। কেননা, আমি আহলে কিতাবদেরকে বলাবলি করতে শুনেছি যে, আমার এই সন্তান শেষ যামানার নবী হবেন।” (বেদায়া ও নেহায়া)। সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়