সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৩

বিবি হালিমার কোলে

প্রসঙ্গ : দুধবোনের সাথে বকরী চড়ানো-মেঘমালার ছায়াদান-বক্ষ-বিদারণ

অনলাইন ডেস্ক
বিবি হালিমার কোলে

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

বিবি হালিমার মেয়ে শায়মা নবী করীম (দ.)-কে কোলে কাঁখে করে রাখতেন। সেজন্য নবী করীম (দ.) তাঁকে আপন বোনের মতো শ্রদ্ধা করতেন। ৮ম হিজরী সনে নবী করীম (দ.) হোনায়েন-এর যুদ্ধে বনী ছকিফ ও বনী হাওয়াজেন গোত্রের প্রায় ছয় হাজার লোককে বন্দী করেন। এমতাবস্থায় শায়মা লাঠিতে ভর করে নিজের বংশের বন্দীদের জন্য সুপারিশ করতে নবীজীর খেদমতে হাযির হলে তাঁকে দেখেই নবী করীম (দ.) সসম্মানে দাঁড়িয়ে যান এবং নিজের গোত্রের লোকজনদের মুক্তির জন্য আবেদন জানালে নবী করীম (দ.) নিজ অংশের বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দেন। সাথে সাথে সাহাবীগণও তাঁদের অংশের সকল বন্দীকে মুক্ত করে দেন। এ ছিল গুরুজনদের প্রতি নবীজির ব্যবহারের আদর্শ। এ আদর্শ মেনে চললে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা হতে বাধ্য।

মেঘমালার ছায়াদান : শায়মা বলেন-“আমি আমার কোরেশী ভাইকে নিয়ে মেষ চড়াতে গেলে দেখতে পেতাম-মরুভূমির প্রখর রৌদ্রে একখণ্ড মেঘমালা তাঁকে ছায়া দিতো এবং তাঁর সাথে সাথে ঘুরে বেড়াতো। যতদিন তিনি আমাদের প্রতিপালনে ছিলেন ততদিন এরূপ অবস্থা ছিল।”

বিবি হালিমা বলেন-“শিশু অবস্থায় নবী করীম (দ.) কাঁদতেন না। একবার তাঁকে কাঁদাবার ইচ্ছায় এবং কান্নার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার বাসনায় তাঁর দু’হাত রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেই।” নবী করীম (দ.) বলেন, আমার হাতের বাঁধন শক্ত হয়ে যাওয়ার ব্যথায় আমি কান্না করতে যাবো -এমন সময় আকাশের চাঁদ আমাকে শান্তনা দিয়ে বললো- ’কাঁদবেন না’, চাঁদের একথা শুনে আমি হেসে ফেললাম। মায়ের আশা পূরণ হলো না।” (যিকরে জামিল-মুফতী শফি ওকাড়ভী)।

বিবি হালিমার ঘরে নবীজী তেইশ মাস ১৩ দিন দুধপান করে দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এভাবে ২৪ মাস বা দু’ বৎসর দুধ পান করে তিনি দুধপান ছেড়ে দেন। এটা কোরআনের বিধান। কিন্তু‘ আমাদের প্রিয় নবী কোরআন নাযিলের বহু পূর্বেই কোরআনী বিধান বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি কোরআনী বিধানের মুখাপেক্ষী নন। তিনি মুখাপেক্ষী শুধু আল্লাহর।

বক্ষ বিদারণ : বিবি হালিমার গৃহে অব¯’ানকালীন সময়ে দুই বৎসর পর দু’জন ফেরেশতা এসে মাঠের মধ্যে নবী করীম (দ.)-এঁর সিনা মোবারক বিদীর্ণ (চাক) করে নফছে আম্মারার ¯’ানটুক সরিয়ে ফেলে দেন এবং নূর, হেকমত, ইসমত, আসরার-ইত্যাদি নেয়ামত তথায় স্থাপন করে দেন। এটাকে প্রথম শক্কে ছদর বলা হয়। অতঃপর চার বৎসর বয়সে তিনি আপন মায়ের কোলে ফিরে আসেন। একেবারে শিশু জীবিনের ঘটনাবলী এভাবে বর্ণনা করা কার পক্ষে সম্ভব? আল্লাহ প্রদত্ত ইলমে লাদুন্নী বা ইলমে গায়েব ছাড়া এসব ঘটনা বলা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। এতে বুঝা যায়-নবীগণের গায়েবী ইলম জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। (সীরাতুন্নবী-সুলায়মান নদভী)।

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়