প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব

নবী করিম (দঃ) -এঁর পিতা-মাতার পুনর্জীবন লাভ ও নূতন করে ইসলাম গ্রহণ:
নবী করিম (দঃ) -এঁর পিতা-মাতা হুযুরের নবুয়তের যুগ পাননি। কিন্তু তাঁরা ছিলেন মিল্লাতে ইব্রাহীমীর উপর প্রতিষ্ঠিত একেশ্বরবাদী হানিফ সম্প্রদায়ভূক্ত মু’মিন। তাঁদের মতো আরবে আরও কিছু লোক হানিফ সম্প্রদায়ভূক্ত ছিলেন। যেমন : আব্দুল মোত্তালেব, ওয়ারাকা ইবনে নওফেল, হযরত খাদিজা ও হযরত আবু বকর প্রমুখ (রাঃ)। যারা নবুয়ত যুগের পূর্বে ইনতিকাল করেছেন, তাঁদেরকে “আসহাবে ফাৎরাত” বলা হয়। তাঁরা ছিলেন তৌহিদবাদী হানিফ। নবী করিম (দঃ) -এঁর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ এবং মাতা বিবি আমেনাও ছিলেন অনুরূপ তৌহিদপন্থী মু’মিন।
যখন নবী করিম (দঃ) জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ১০ম হিজরীতে একলাখ চৌদ্দ হাজার সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মক্কা শরীফে হজ্ব করতে আসেন, তখন একদিন নবী করিম (দঃ) বিবি আয়েশা (রাঃ)কে সাথে নিয়ে জান্নাতুল মুয়াল্লাতে বিবি খাদিজা (রাঃ)-এঁর মাযার যিয়ারত করতে গেলেন। (তখন নাম ছিল হাজুন)। হযরত আয়েশা (রাঃ) গাধার লাগাম ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে রইলেন। নবী করিম (দঃ) যিয়ারতকালে প্রথমে খুব কাঁদলেন-পরে হাসলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) কারণ জানতে চাইলে হুযুর আকরাম (দঃ) বললেন- “আমার পিতা-মাতাকে আল্লাহ্ পাক পুনর্জীবিত করে আমার সামনে হাযির করেছেন। তাঁরা নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করে পুনরায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি পিতা-মাতাকে দেখে খুশী হয়ে হেসেছি।” (বেদায়া ও নেহায়া দ্রষ্টব্য)। ইমাম সোহায়লীর বরাত দিয়ে ইবনে কাছির এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ফতোয়ায়ে শামীতে হাফেয নাসিরুদ্দীন বাগদাদীর বরাতে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে একখানা হাদীস উদ্ধৃত করে আল্লামা শামী লিখেছেন-হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন-আল্লাহ তায়ালা নবী করিম (দঃ)-এঁর সম্মানে তাঁর পিতা-মাতাকে পুনর্জীবিত করেন। তাঁরা উভয়ে নূতন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপরে তাঁরা পুনরায় পূর্বের ন্যায় মৃত্যুবরণ করেন। যেমন আল্লাহ্ পাক হযরত ঈসা (আঃ)-এঁর মাধ্যমে মৃতকে জীবিত করতেন, তদ্রুপ নবীজীর খাতিরেও করেছেন।” (শামী)
সুতরাং আমরা এখন থেকে মুক্তকন্ঠে বলবো - হযরত আব্দুল্লাহ ও হযরত আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা। কেননা, তাঁরা সাহাবী হিসাবে গণ্য।
বি: দ্র: হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন-যেন তাঁদের বংশধরদের (আরব) মধ্যে প্রত্যেক যুগেই কিছু মুসলিম বিদ্যমান থাকে। (সূরা বাক্বারাহ ১২৮ আয়াত)।
অর্থঃ-”হে প্রভু! আমাদের উভয়কে তুমি তোমার অনুগত মুসলিম হিসেবে কবুল করো এবং আমাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যেও (আরব দেশে) কিছু সংখ্যক লোককে অনুগত মুসলিম বানিয়ে রেখো।” এই দোয়ার বরকতে পরবর্তী প্রত্যেক যুগেই আরবে কিছু সংখ্যক সত্যপন্থী হানিফ সম্প্রদায় বিদ্যমান ছিলেন। নবী করিম (দঃ)-এঁর পিতা-মাতা ও তাঁদের পূর্ব পুরুষগণ এই হানিফ সম্প্রদায়ভূক্ত ছিলেন। তাঁদেরকে কাফের মনে করা বেদ্বীনি কাজ। ইতিহাসেও হানিফ সম্প্রদায়ের উল্লেখ রয়েছে। বাতিলপন্থীরা ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে বে-খবর। (চলবে) সূত্র : সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।






