প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৫:১২
এতোটা অসহিষ্ণু হলে কি চলে?

‘ফরিদগঞ্জে সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎকর্মীদের তুলে নিয়ে মারধর \ পল্লী বিদ্যুতের মামলা’-গতকাল চঁাদপুর কণ্ঠে এমন শিরোনামে একটি সংবাদ পড়ে স্তম্ভিত হতে হলো। সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন পল্লী বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশনে ঢুকে এক লাইনম্যানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দুপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় স্থাপিত চঁাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন সাব স্টেশনে বিদ্যুতের লাইনম্যানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপকেন্দ্র-১-এর আওতাধীন নয়াহাট এলাকায় স্থাপিত সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে যান লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. ইব্রাহীম ও গ্রেড-২ মো. আব্দুল কাদের। এ সময় হঠাৎ করেই সাবস্টেশনের ভেতরে অন্তত ১০-১২ জন লোক ঢুকে লাইনম্যানদের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা এক পর্যায়ে কর্মরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. আব্দুল কাদেরকে উঠিয়ে উত্তর ধানুয়া গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা ২৩ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং হাতের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে ক’জন গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মামলায় ধানুয়া গ্রামের মো. জাফর মিজি, মো. ফারুক পাটোয়ারী, মো. জসিমসহ বেশ কিছু লোককে আসামি করা হয়েছে। এদিকে ধানুয়া গ্রামের লোকজন জানায়, কয়েক মাস ধরে অব্যাহত লোডশেডিং থাকলেও বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে। একাধিকবার সাব-স্টেশনে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে উত্তেজিত জনতা এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। যদিও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলেন, উপকেন্দ্রের সকল যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ থাকে। উত্তেজিত জনতা যন্ত্রপাতিতে হস্তক্ষেপ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লোকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারতো। জনসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আহত করা দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক অপরাধ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আল আমিন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে।
লোডশেডিং হলেও মাসশেষে বিল-শেডিং তথা বিদ্যুৎ বিল কম হয় না, বরং বেশি হয়-এটা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রাহকদের কমন অভিযোগ। এ অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ণয়ের জন্যে অবশ্যই তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আছে। এক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হবে। ভুক্তভোগীরা গণস্বাক্ষর দিয়ে প্রথমে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। প্রতিকার প্রাপ্তির জন্যে তাগিদ দিতে হবে বারবার। কাজ না হলে অপেক্ষা করে মানববন্ধন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা যেতে পারে। তারপর অন্য কোনো কঠোর কর্মসূচি হাতে নেয়ার ব্যাপারে আল্টিমেটাম দেয়া যেতে পারে। এতে কাজ না হয়ে পারে না। কিন্তু এতোটুকু প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে যারা সরাসরি প্রতিক্রিয়া (ডাইরেক্ট অ্যাকশন) দেখাতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তারা নিশ্চিত ভুল করে। নিরপরাধ লাইনম্যানের ওপর হামলে পড়ে এমন ভুলই ফরিদগঞ্জে বিক্ষুব্ধ উচ্ছৃঙ্খল বিদ্যুৎ গ্রাহকরা করেছে, যা আপত্তিকর। এতে একে পাপ করে দশে ভোগ করার মতো নিরীহ সাধারণ কিছু গ্রাহককে জটিলতা ও দুর্ভোগে পড়তে হবে নিঃসন্দেহে।








