বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৫

এমন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা আশা ও বিশ্বাস ছড়ায়

অনলাইন ডেস্ক
এমন স্বতঃপ্রণোদিত মামলা আশা ও বিশ্বাস ছড়ায়

সাধারণ মানুষ জানে, সুয়ো মোটো (suo motu) তথা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দেশের উচ্চ আদালতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিচারক দ্বারা হয়, জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোতে কর্মরত বিচারকদের দ্বারা সাধারণত হয় না। এ ধারণার বিপরীতে এমন মামলা চাঁদপুরে হওয়ায় এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলোর সংবাদকে মূল্যায়ন করে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একের পর এক তদন্তের নির্দেশ দেয়ায় চাঁদপুরের বিচার অঙ্গনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে এবং সাধারণ্যে আশা ও বিশ্বাস ছড়াচ্ছে। এ পর্যন্ত চাঁদপুরের বিচারকগণ চাঁদপুর কণ্ঠ, চাঁদপুর দর্পণ ও চাঁদপুর প্রবাহের বিভিন্ন সংবাদে জনস্বার্থে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলছে, তাতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা আত্মশ্লাঘা বোধ করছে।

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে আদালত প্রতিবেদক চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম কর্তৃক পরিবেশিত একটি সংবাদে লিখা হয়েছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করায় খোকন দেবনাথ নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন ফরিদগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্দ্ধন। গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ফরিদগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন’ শীর্ষক সংবাদ ফরিদগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টিগোচরে আসার পর এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর-কে সরেজমিনে অনুসন্ধানপূর্বক সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখলদারকে শনাক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেমতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ১৪০নং রূপসা মৌজার ১নং খতিয়ানের ৩২৪২ নম্বর দাগের ০.০০৩৩ একর ভূমি ব্যবসায়ী খোকন দেবনাথ কর্তৃক তার নিজ ভূমির সাথে অবৈধভাবে দখল করে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকারি নিষেধ অমান্য করে খাস সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগে ব্যবসায়ী খোকন দেবনাথকে দায়ী করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। সরকারি খাস সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ১১ ধারার অপরাধ। সরকারি সম্পত্তিতে দখলবাজি প্রতিরোধে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্ত খোকন দেবনাথের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন ফরিদগঞ্জ আমলী আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্দ্ধন।

সুয়ো মোটো একটি ল্যাটিন আইনি পরিভাষা, যার অর্থ ‘স্বতঃপ্রণোদিতভাবে’ বা নিজের ইচ্ছায়। সংক্ষুব্ধ কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক আবেদন বা পিটিশন ছাড়াই যখন আদালত নিজের উদ্যোগে কোনো ঘটনা বা বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তখন তাকে সুয়ো মোটো বলা হয়। বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও (যেমন : পুলিশ বা প্রশাসন) যখন কোনো অভিযোগের অপেক্ষা না করে নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত বা ব্যবস্থা নেয়, তখন তা সুয়ো মোটোর আওতাভুক্ত হতে পারে। গুগল থেকে সংগৃহীত উপরোল্লিখিত তথ্যের আলোকে আমাদের সমাজ বাস্তবতায় কী দেখতে পাই? বাদীর অভাবে পুলিশ কতো জঘন্য ঘটনাতেও চুপ থাকে নানা অদৃশ্য চাপে ও প্রভাবে, আবার অনেক তুচ্ছ ঘটনাতেও কিংবা হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কিছু ঘটনায় পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। বিচারক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে যেভাবে আলোচিত, সমাদৃত ও প্রশংসিত হন, পুলিশ সেভাবে হতে পারে না। কারণ, আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও পুলিশ নানা চাপ ও প্রভাবমুক্ত হতে পেরেছে কি না সেটার জবাব কেউ হলফ করে দিতে পারবে না। আমরা আশা করি, এ ব্যাপারে হলফযুক্ত জবাব একদিন আসবে, তবে অপেক্ষাটা যেনো অনির্দিষ্টকালের না হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়