শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৩:১৪

সকল প্রতিষ্ঠানে চিটিজেন চার্টার লাগানোটা বাধ্যতামূলক করা হয় না কেন?

অনলাইন ডেস্ক
সকল প্রতিষ্ঠানে চিটিজেন চার্টার লাগানোটা বাধ্যতামূলক করা হয় না কেন?

ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে সিটিজেন চার্টার স্থাপন’-এটা সাম্প্রতিক সময়ের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সংবাদ বলে অনেকের কাছে মনে হবে না। কারণ, সিটিজেন চার্টার স্থাপনের কোনো হিড়িক বর্তমানে নেই। তবুও কলেজের অধ্যক্ষ এ কাজটি করায় গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে চঁাদপুর কণ্ঠের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি সেটির নিউজ ভ্যালু উপলব্ধি করে সংবাদ হিসেবে পরিবেশন করেছেন। সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সেবাগ্রহীতাদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহর উদ্যোগে সম্প্রতি কলেজ ক্যাম্পাসে এ সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা হয়।

জানা যায়, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে কলেজে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা হয়। সিটিজেন চার্টারে কলেজের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক সেবা, সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নির্ধারিত সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমবে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সিটিজেন চার্টার স্থাপনের মাধ্যমে কলেজের সেবাসমূহ আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হবে। এতে সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন। কলেজের অন্যান্য শিক্ষক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয়ের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে কলেজের সেবা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপকৃত হবেন। শিক্ষার্থীরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিটিজেন চার্টার স্থাপনের ফলে কলেজের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সহজেই তথ্য পাওয়া যাবে। এতে আমাদের সময় বঁাচবে এবং প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কলেজ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিটিজেন চার্টার স্থাপনের মাধ্যমে ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আস্থা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে।

সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সনদ বলতে কী বোঝায়, এর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা কী, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এ সিটিজেন চার্টার কতোটা কার্যকর, উপরোল্লিখিত সংবাদটির বিবরণী পড়লে সেটা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া লাগে না। এমন সিটিজেন চার্টার স্থাপনের বিষয়টিতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একটি সময় বেশ তাগিদ দেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর আলোকে সিটিজেন চার্টার স্থাপনের জন্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জোর তাগিদ সৃষ্টির প্রয়াস চালায়, এমনকি নিজ খরচে সেটি স্থাপনও করে দেয়। কিন্তু ওইসব প্রতিষ্ঠানের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেই সিটিজেন চার্টার উধাও, নষ্ট করা কিংবা ঢেকে ফেলার প্রয়াস চালায়। বর্তমানে সিটিজেন চার্টার স্থাপনের বিষয়টি মুখ্য তো নয়, গৌণ বিষয়েই পরিণত হয়েছে। তারপরও ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিজ তাগিদে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করেছেন, যেটি অনেকের কাছে বিরুদ্ধ স্রোতে শামিল হবার মতো বিষয় বলে মনে হতে পারে। আমরা মনে করি, কার কাছে কী মনে হয় সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও সেখানে কর্মরত সকলের জবাবতিহিতার জন্যে সিটিজেন চার্টার স্থাপন অতীব প্রয়োজন। আমাদের কথা হলো, এটি স্থাপন করা সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না কেন?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়