বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫০

প্রশাসনের ত্বরিত ব্যবস্থাগ্রহণ, তবুও সাংবাদিকগণ উদ্বিগ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রশাসনের ত্বরিত ব্যবস্থাগ্রহণ, তবুও সাংবাদিকগণ উদ্বিগ্ন

‘হাজীগঞ্জে প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২ ॥ চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের তীব্র নিন্দা’ গতকাল এমন শিরোনামে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণের সংবাদটি পাঠকমাত্রেরই নজর কেড়েছে। সংবাদটিতে কামরুজ্জামান টুটুল লিখেছেন, হাজীগঞ্জে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। একটি আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) দুপুরে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। হাজীগঞ্জ বাজারের হলুদ পট্টির মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেল মালিক লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে। মারধরের ঘটনার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক আজাদ বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। স্থানীয়রা জানান, হাজীগঞ্জ হলুদ পট্টির আনোয়ার মঞ্জিল ও মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিকদের বিরুদ্ধে হোটেলটিতে পতিতাবৃত্তি এবং লোকজনকে আটকে রেখে মারধর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পুরোনো। সবশেষ গত শনিবার ওই হোটেল থেকে নিখোঁজ এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি খোলা রেখে অনৈতিক কার্যক্রম চালানো শুরু হয়। এ সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সূত্র ধরেই সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে মারধর করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন ভাড়া করা অজ্ঞাতনামা ১০-১২জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে যান এবং সেখান থেকে সাংবাদিক আজাদকে তুলে নিয়ে তার আবাসিক হোটেল ভবনে নিয়ে মারধর করেন। এদিকে সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করতে করতে তুলে নেয়ার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। আহত সাংবাদিক হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন ও বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপর নামীয় আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনা করায় মঙ্গলবার (১৭ জুন ২০২৬) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান এবং হাজীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

আমরা হাজীগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল মালিকের চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্তম্ভিত। উপজেলা ও থানা প্রশাসন ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি আপাত সামাল দিয়েছে। অন্যথায় এটি ভিন্নরূপ ধারণ করার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের আমলে এবং অন্তবর্তী সরকারের সময় দেশের অন্যত্র সাংবাদিক নানাভাবে নিগৃহীত ও খুন হবার সংবাদ জানা গেলেও শান্তিপূর্ণ জনপদ নামে খ্যাত চাঁদপুর জেলার কোথাও প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে কোনো সাংবাদিককে মারধরের খবর জানতে পারিনি। এবার জানলাম একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে, যেটা খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগ্রহণটা আশানুরূপ। এ ঘটনার পূর্বে হাজীগঞ্জে ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক’জন সাংবাদিককে আইনি হয়রানির বিষয়টি জানা গেছে। সেটার রেশ না কাটতেই একেবারে প্রেস ক্লাব থেকে তুলে নিয়ে একজন সাংবাদিককে মারধর করার ঘটনায় উদ্বেগাকুল পরিস্থিতি যে সৃষ্টি হয়েছে, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। স্থানীয় এমপি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে এ উদ্বেগ কেটে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়