প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০০:১৮
চাঁদপুরে বজ্রপাতের আতঙ্ক
এক ঝলকেই শেষ হতে পারে জীবন, সচেতনতাই বাঁচার একমাত্র উপায়

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চাঁদপুরে বেড়েছে বজ্রপাতের প্রকোপ। আকাশে কালো মেঘ জমা হওয়ার পর হঠাৎ করেই শুরু হচ্ছে বজ্রসহ বৃষ্টি, আর এর সঙ্গে দেখা দিচ্ছে প্রাণঘাতী বজ্রপাত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
|আরো খবর
বাংলাদেশে প্রতিবছর শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। কৃষিপ্রধান জেলা চাঁদপুরে মাঠে কাজ করা কৃষক, নদীতে মাছ ধরা জেলে, খোলা স্থানে থাকা পথচারী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
বজ্রপাতে কতো শক্তি থাকে?
বিজ্ঞানীদের মতে, একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে। একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের ভোল্টেজ কয়েক কোটি থেকে শত কোটি ভোল্ট পর্যন্ত হতে পারে এবং এতে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বা তারও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বজ্রপাতের সময় উৎপন্ন শক্তি মুহূর্তের মধ্যেই মানুষের শরীর, গাছপালা কিংবা স্থাপনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বজ্রপাতের আঘাতে একজন মানুষের হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে, আবার কেউ কেউ স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন।
চাঁদপুরে ঝুঁকি বেশি কেন?
চাঁদপুরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, খোলা চরাঞ্চল এবং নদী পরিবেষ্টিত এলাকা বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও নদীতে অবস্থানরত জেলেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও বজ্রঝড়ের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয়
১. বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে।
২. খোলা মাঠ, নদী, পুকুর ও জলাশয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
৩. বড়ো গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
৩. মোবাইল ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় ব্যবহার না করাই ভালো।
৪. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
৫. বজ্রপাতের সময় ছাদ, উঁচু স্থান ও খোলা বারান্দা এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. মাঠে অবস্থান করলে দু পা একসঙ্গে রেখে মাথা নিচু করে বসে থাকতে হবে, তবে মাটিতে শুয়ে পড়া যাবে না।
৭. বজ্রপাতের শব্দ শোনা গেলে অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।
সচেতনতাই পারে প্রাণ বাঁচাতে
প্রতিবছর বজ্রপাতে বহু মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসচেতনতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই বজ্রপাতের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন আচরণ ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
চাঁদপুরের সচেতন মহল মনে করেন, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে বজ্রপাত বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
"বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে জীবন বাঁচাতে।"
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








