মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০০:৩২

ইসলামি শরিয়া আলোকে কোরবানি নিয়ে কিছু কথা

ড. আব্দুস সাত্তার
ইসলামি শরিয়া আলোকে কোরবানি নিয়ে কিছু কথা

আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক নিজ পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি করার যে চরম পরীক্ষা ছিল, তার স্মৃতি ধরে রাখতে ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশে দ্বিতীয় হিজরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি শুরু হয়। এর আগে প্রথম কোরবানি আধ্ম (সা.)-এর পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে চালু হয়েছিল । কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পেঁৗছায় না, বরং পেঁৗছায় বান্দার ‘তাকওয়া’ বা অন্তরের নিষ্ঠা।সুধু তাই ন্তয় কয়ারবানির মাধ্যমে তোমাদের ভেতরের অহংকার, হিংসা ও পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে মহান আল্লাহর আদেশের সামনে মাথা নত কর।

সামথর্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা ওয়াজিব। অর্থাৎ ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ/ব্যবসায়ী পণ্য থাকা প্রত্যেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন মুসলিমদের ওপর কোরবানি করাসুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা ওয়াজিব। রাসূল (সা.) বলেছেন, সামথর্য থাকার পরও যে ব্যক্তি কুরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের কাছে না আসে।

ইসলামি শরিয়াহ আনিযায়ী যদি কারো উপর ঋণ থাকে, তাহলে তার করণীয় হল কুরবানী করার পূর্বে ঋণ পরিশোধ করা (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৮/৪৫৫ পৃ.)। তবে ঋণদাতা যদি ঋণ পরিশোধের পূর্বে কুরবানী করার অনুমতি দেয় তাইলে কোরবানি করা যাবে। আর ঋণ পরিশোধ না করে বা অনুমতি না নিয়ে কোরবানি দিলে কোরবানি হবে না। কারন ঋণের টাকা পরিশোধ করা ফরজ, তাই ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কুরবানীর চেয়ে ঋণ পরিশোধ করা বেশি জরুরি।

আল্লাহ্ বলেছেন, হালাল উপার্জনে কোরবানি দিলে, তোমাদের কোরবানির পশুর রক্তের প্রথম ফেঁাটা জমিনে পড়ার আগেই কুরবানীদাতার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। সুবহানাল্লাহ।

ড. আব্দুস সাত্তার : ওয়াশিংটন ডি সি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়