মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০৮:৪৫

প্রবাসফেরত যুবকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজদের কারণে বিপন্নতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসফেরত যুবকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজদের কারণে বিপন্নতা

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের একটি খবরে প্রকাশ, মতলব উত্তর উপজেলায় চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রিটন মিয়াজী, মফিজ মিয়াজী, শাহ আলম মিয়াজী ও রিপন পাটোয়ারীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়ের করেন উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের বিনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজিব মিয়াজী (২৯)। তিনি মতলব উত্তর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজিব মিয়াজী দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি টেলিকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। সেখানে নগদ, বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করা হতো। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো।

ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ মে বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাজিব মিয়াজী দোকানে যাওয়ার পথে বিনন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ নম্বর আসামি মো. মফিজ মিয়াজী তার নাকে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। ১ নম্বর আসামি রিটন মিয়াজী কাঠের রুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ছুরিকাঘাতে তার বাম হাতের তালু কেটে যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ নম্বর আসামি শাহ আলম মিয়াজী কাঠের রুয়া দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বলে অভিযোগে বলা হয়। মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩ নম্বর আসামি রিপন পাটোয়ারী তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ব্যবসার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত রাজিবকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

বাদী রাজিব মিয়াজী বলেন, আমি বিদেশ থেকে এসে কষ্ট করে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। ঘটনার দিন টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। আমার কাছে থাকা ব্যবসার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর আসামিরা মামলা করলে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। রাজিবের মা জারিয়া বেগম জানান, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি আমার ছেলের ওপর হামলার সঠিক বিচার চাই। বিবাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।

এ মামলার তদন্তের ভার নিশ্চয়ই পুলিশের ওপর পড়বে। আসামিদের মধ্যে দুজনই বাদী রাজিব মিয়াজীর বংশীয় অর্থাৎ নামের শেষে মিয়াজী নামধারী। এক্ষেত্রে বাদীর সাথে আসামিদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত কিংবা অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কিনা সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে সত্যতা যদি পাওয়া যায়ও, তারপরও বলতে হবে, বাদী রাজিব মিয়াজীর ওপর বিবাদীদের এমন হামলা সকল যুক্তিতেই অগ্রহণযোগ্য। একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধার প্রবাস থেকে দেশে ফেরত এসে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহের প্রয়াসকে উত্তমই বলতে হবে। নিতান্তই চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো কারণে তার ওপর হামলে পড়ে যারা তার জীবনকে বিপন্ন করতে চাইছে, তারা অবশ্যই দুর্বৃত্তায়নে সংশ্লিষ্ট। এদেরকে আইনের ফাঁকফোকরে ছাড় দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। এরা শান্তি বিঘ্নকারী ও সমাজের শত্রু। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আইন-আদালত শুধু নয়, সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে। নিতান্তই চাঁদাবাজির কারণে কারো ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাক, কারো জীবন বিপন্ন হোকÑএটা নিশ্চয়ই কেউ প্রত্যাশা করে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়