সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১০:১৫

কচুয়ায় স্কুল ছাত্র শাকিব হত্যা রহস্য উদঘাটন, পরিকল্পনাকারী ২ কিশোর গ্রেফতার

আলমগীর তালুকদার
কচুয়ায় স্কুল ছাত্র শাকিব হত্যা রহস্য উদঘাটন, পরিকল্পনাকারী ২ কিশোর গ্রেফতার

কচুয়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক 'ক্লুলেস' স্কুলছাত্র শাকিব হাসান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী দু কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের প্রায় দু মাস পর ভিকটিমের মাথার খুলি ও শরীরের কিছু হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত শাকিব হাসান উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর গাজী বাড়ীর সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর আড়াইটার দিকে শাকিব নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলো। বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে সে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিলো।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, ২৪ নভেম্বর সাকিবের বাড়ির উত্তর পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় জনৈক মোস্তফা মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত সিআইডি’র ডিএনএ পরীক্ষার জন্যে ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় সেগুলো শাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের পিতা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। এতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জয়নগর গাজী বাড়ির আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭)কে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা শাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেয়, যাতে লাশ উপরে ভেসে না ওঠে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দু আসামিকে ১০ মে ২০২৬ (রোববার) আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়