প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৪৩
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় ডাকাতিয়া: মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা!
কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছায় হতে পারে বিনোদন স্পট

এক সময়ের খরস্রোতা নদী ডাকাতিয়া আজ মৃতপ্রায়। দখল আর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর সৌন্দর্য। এমনই করুণ চিত্র ডাকাতিয়া নদীর। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছায় ডাকাতিয়ার পাড় হতে পারে বিনোদন স্পট। প্রকৃতির সান্নিধ্য ও আনন্দদায়ক সময় কাটানোর জন্যে ডাকাতিয়ার পাড় হতে পারে উপযুক্ত স্থান।
|আরো খবর
প্রবল স্রোত আর প্রাণবন্ত জলধারায় ভরপুর ছিলো ডাকাতিয়া নদী। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সে নদী এখন অনেকটাই মৃতপ্রায়। দখল, দূষণ, ভরাট, বাঁধ আর নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলার কারণে ডাকাতিয়া হারিয়েছে তার স্বাভাবিক রূপ। দূষণে কোথাও কোথাও নেই প্রাণের অস্তিত্বই, দখলে-বাঁধে হারাচ্ছে নাব্যতা, ভরাটে হারাচ্ছে অস্তিত্ব। প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাকাতিয়ার মাঝখানে পিচঢালা রাস্তা তৈরি করে বুঝিয়ে দিচ্ছে এখানে ডাকাতিয়ার কোনো অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি যেনো এমন-যে রক্ষা করবে সে-ই সহযোগিতা করছে ধ্বংসের। এমন দৃশ্য দেখা যায় ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিরবাজারের শেষ মাথায় সন্তোষপুর অভিমুখী সড়কে। এখানে ডাকাতিয়ার মাঝখানে পিচঢালা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ঘুরে ঘুরে নদীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও নদী পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। আবার কোথাও পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য যেমন হুমকির মুখে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও। আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। কিছু কিছু অংশ লিজ দেয়ার তথ্যও রয়েছে। এছাড়া জাল দিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে অনেকে। কচুরিপানাতো রয়েছেই। বিভিন্ন হাট বাজারের বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে এবং নদীর পাড়ে প্রথমে বাঁশ ও টিন দিয়ে দোকান নির্মাণ, তারপর ইটের দালান তুলে স্থায়ীভাবে দখল করা হচ্ছে ডাকাতিয়া। প্রশাসন দেখেও না দেখার মতো ভান করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই নদী দিয়ে নৌকা চলাচল করলেও এখন তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্ষা ছাড়া বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদী থাকে পানিশূন্য। অতিরিক্ত কচুরির কারণে নৌযান চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বে নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে নদীর অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কমছে পানির গভীরতা।
সিআইপি কৃষক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন দুলাল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ডাকাতিয়া নদী পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত খনন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী সংস্কার করে যেমন ডাকাতিয়া বাঁচানো যায়, তেমনি নদীর সৌন্দর্যবর্ধন করে পর্যটন এরিয়া বানালে মানুষ প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, নদী সংস্কার বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আমি পাউবো কৃর্তপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।
ডিসিকে /এমজেডএইচ






