রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪

সাবেক নেভীর হেভী অ্যাকশন, তারপর-

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক নেভীর হেভী অ্যাকশন, তারপর-

কলা পাতা কাটাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘুষি দিয়ে প্রতিপক্ষকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের আলমগীর ভেন্ডার বাড়ির মরহুম সোনা মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫০) দুদিন আগে আবুল বাশারের কলাগাছ থেকে কলা পাতা কাটে ছাগলের জন্যে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল বাশার ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানায় বসার কথা ছিলো। থানায় যাওয়ার আগেই দুপুর ২টার দিকে বাড়ির রাস্তায় বিল্লালকে একা পেয়ে আবুল বাশার ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৩৮) পথরোধ করে। তর্কের এক পর্যায়ে আবুল বাশার বিল্লালের ঘাড়ের উপরে সজোরে আঘাত করেন। এতে সাথে সাথে বিল্লাল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ‎বিল্লাল হোসেন ছিলেন সিএনজি অটোরিকশা চালক। তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ‎হত্যায় অভিযুক্ত আবুল বাশার (পিতা মরহুম রুস্তম আলী) নেভীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। এলাকাবাসী জানান, আবুল বাশার একজন অত্যাচারী মানুষ। সে বাড়ির কাউকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।‎ অভিযুক্তের ছেলে শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, তার সাথে হাতাহাতি হয়েছে ঠিক, কিন্তু তাকে এমন কোনো আঘাত করা হয়নি যে মারা যাবে। কিন্তু কেনো মারা গেলো জানি না। ‎ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমরা ময়নাতদন্তের জন্যে লাশ থানায় নিয়ে এসেছি। মামলাও দায়ের হয়েছে। ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিল্লালকে খুনের দায়ে আবুল বাশারসহ ৩জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এককালে নেভীতে কর্মরত আবুল বাশার তার কলাগাছের পাতা অটোরিকশা চালক বিল্লাল কেটে তার ছাগলকে খেতে দেয়ায় হেভী অ্যাকশন দেখাতে গিয়ে থানা-পুলিশ করেছেন এবং থানায় বসার আগেই একা পেয়ে বিল্লালকে ঘুষি দিয়ে দুনিয়ার সীমানা পার করে দিয়েছেন। পুলিশও কম যায় কিসে। তারাও হেভী অ্যাকশন দেখিয়ে খুনের দায়ে সাবেক নেভী আবুল বাশারকে ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে দু পুত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এবারের ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে আবুল বাশার যে জেল পেয়ে গেলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দেখার বিষয়, তিনি আবার ঈদের আগে জামিন পেয়ে যান কি না। বিচারক ও আইনজীবীগণের বিবেকের আদালতে সংক্ষুব্ধ ও সংবেদনশীল প্রতিটি মানুষের আর্জি থাকলো যে, আবুল বাশার ও তার দুপুত্রের জামিন যেনো কোনোভাবে না হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা আন্তরিক থাকবেন। ছাগলকে কলা পাতার স্বাদ পাইয়ে দিতে গিয়ে বিল্লাল মৃত্যুর স্বাদ নিয়েছেন-এটা ভাবতেও যে কোনো মানুষের থমকে যেতে হয়, স্তম্ভিত হতে হয়, আর অনেককে স্বগতোক্তি করতে হয়, আমরা কোন্ সমাজে বসবাস করছি, যেখানে জীবনের মূল্য কলা পাতার চেয়েও কম!

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়