মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৫

এটি মতলব উত্তরে পুলিশের বড়ো সাফল্য, তবে-

অনলাইন ডেস্ক
এটি মতলব উত্তরে পুলিশের বড়ো সাফল্য, তবে-

মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে শাশুড়ি পারুল বেগম (৭০)কে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পাশের বাড়ির প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠু (৩০)-এর বিরুদ্ধে। তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা এবং দস্যুতা মামলা দায়ের করেছেন। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। প্রথমে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে পরকীয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিকল্পিত হত্যার তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত হালিমা আক্তার ও মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে ইটালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত হন। এরপর মিঠু হালিমাকে ব্যবহার করে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করতে চেষ্টা করেন। হালিমা রাজি না হলে মিঠু তার স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে ভয় দেখায় এবং হালিমাকে পরিকল্পনায় সহায়তা করতে রাজি করায়। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় মিঠুন গোপনে প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর মিঠু পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্যে হালিমাকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার খবর পান। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেছেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিলো না। পরকীয়ার জেরে হালিমা আক্তার তার মাকে হত্যা করেছে এবং পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের সাফল্য বিরলই বটে। আপাত দৃষ্টিতে মতলব উত্তরের যে ঘটনাকে ডাকাতি বলে ধারণা করা হয়েছিলো, সেটি যে পরকীয়ার কারণে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সেটি পুলিশ তার তদন্তজনিত দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের মেধা ও প্রজ্ঞা এবং মতলব উত্তর থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরলস প্রয়াস যে কাজ করেছে সেটা পর্যবেক্ষক মাত্রই ধারণা করতে অসুবিধা হয় না। পুলিশের কাছ থেকে মামলার বাদী প্রত্যাশার বাইরে অতি দ্রুত যে সহযোগিতা পেলেন, তাতে ন্যায়বিচার যে নিশ্চিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মতলব উত্তরে একটি হিন্দু বিয়েতে কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদা দাবি ও হামলায় তিনজন আহত হবার ঘটনায় মতলব উত্তর থানা পুলিশের কাছ থেকে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণমূলক কোনো কিছু না দেখে যখন হতাশা বিরাজ করছিলো সাধারণ মানুষের মনে, তখন একটি হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের দ্রুত সাফল্যের ঘটনায় আশান্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মতলব উত্তরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে যদি আবার কোনো অঘটন ঘটে, তবে পুলিশের হত্যা রহস্য উন্মোচনের সাফল্য কিন্তু ম্লান হয়ে যাবে। নূতন সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যে টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের নজিরবিহীন হামলা এবং পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঁদপুরের অন্য ৭টি উপজেলার চেয়ে মতলব উত্তর অনেক বেশি আলোচনায়। সে আলোচনা থামাতে কারো মুখ চেপে ধরা যাবে না এবং হাতের কাজ বন্ধ করতে বল প্রয়োগও করা যাবে না। অতএব মতলব উত্তর থানা পুলিশের আত্মতুষ্টির সুযোগ খোঁজার অবকাশ নেই, যতক্ষণ না প্রতিটি বড়ো অঘটনে দ্রুত দৃশ্যমান কিছু দেখাতে না পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়