প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৪
এ মহোৎসব বন্ধ না হলে ব্রিক ফিল্ড থাকবে, কৃষি জমি থাকবে না

কচুয়ায় কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির মহোৎসব চলছে। এটা কোনোভাবেই থামছে না। আইন অমান্য করে প্রতিনিয়ত প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন মাটি কেটে চলছে। এতে একদিকে কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, অপরদিকে একশ্রেণীর সিন্ডিকেটের পকেট ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া মাটি পরিবহনে ট্রাক্টর নামক দানবরূপী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী মহল কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম দামে জমির মাটি ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করে। একটি বছর পার না হতেই বর্ষাকাল হলেই পাশের জমি বিলীন হয়ে যায়। তখন পাশের জমিটি ক্রয়ের জন্যে মালিককে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। তখন পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নিরূপায় হয়ে জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হন। প্রশাসনের দাবি, জমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার বাছাইয়া, ঘাগড়া, দোয়াটি ও তেতৈয়া বিল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কয়েক শ’ একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিনষ্ট করা হয়েছে। ফলে আশপাশের জমিও ভেঙ্গে পড়ছে এবং অনেক স্থানে সেচের পানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাছাইয়া গ্রামের কৃষক রঞ্জিত বলেন, আমার পাশের জমিতে মাটি কেটে নেয়ায় আমার শেষ সম্বলটুকু বিলীন হওয়ার পথে। কিছুদিনের মধ্যেই আমার শেষ জমিটুকু বিলীন হয়ে যাবে। এই জমির ফসল দিয়েই আমার সংসার চলে। এ সময় মকবুল নামে এক মাটি ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনে কী বলা আছে আমি জানি না, তবে আমি কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে বিক্রি করি। এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে মাটি কাটবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি রোববার রাতে গোহট ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে কৃষি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, তা না হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড়ো ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি মো. নাছির উদ্দিন গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে টপসয়েল বিক্রি তথা অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রিতে কচুয়ায় মহোৎসবের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, এমন চিত্র চাঁদপুরের প্রায় সকল উপজেলা এবং দেশের অধিকাংশ স্থানেই দেখা যায়। অবকাঠামো উন্নয়নের প্রশ্নে ইট উৎপাদনের আবশ্যকতা রয়েছে, তবে সেটা কৃষি জমি ধ্বংস করে কৃষি উন্নয়নকে ব্যাহত করে নয়। প্রতিটি উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে সমানভাবে সোচ্চার নয়। যেমন চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ ও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন যতোটা সোচ্চার, তুলনামূলকভাবে অন্য উপজেলা প্রশাসন ততোটা সোচ্চার নয়। ফরিদগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব কচুয়ার চেয়ে ভয়াবহ হলেও মোবাইল কোর্টের আভিযানিক তৎপরতা ধারাবাহিক ও কঠোর নয়, অনেকটা অজুহাতভিত্তিক ভোঁতা। আর পরিবেশ অধিদপ্তর তো নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে, আর গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে চাঁদপুরে যে এই অধিদপ্তর এখনও আছে, সেটা জানান দিয়েছে। বস্তুত অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজটা সর্বত্র চলছে প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় এবং যেসব সংস্থা ও ব্যক্তিকে ম্যানেজ করা দরকার তাদেরকে ম্যানেজ করেই। এ ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত এমপিগণ সোচ্চার না হলে এবং কৃষি জমি রক্ষায় টাস্ক ফোর্স গঠন করে সাঁড়াশি অভিযান না চালালে ক’বছরের মধ্যেই কৃষি জমির সঙ্কটে পড়বে দেশ-এটা নিশ্চিত।




