প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩
এমন ব্যতিক্রম আয়োজন প্রশংসাযোগ্য ও উপভোগ্য

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী আয়োজন। অমর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদ্যালয় শাখা আয়োজন করে ‘মায়ের কাছে চিঠি’ লেখা প্রতিযোগিতা, যা উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন মোবাইল ও অনলাইনের প্রভাবে চিঠি লেখার অভ্যাস প্রায় বিলুপ্ত, তখন শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও মায়ের প্রতি মমত্ববোধ যাচাইয়ের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্মার্টফোনের যুগে শিক্ষার্থীরা চিঠি লেখার মাধুর্য ভুলে যাচ্ছে। মাতৃভাষা দিবসে মায়ের কাছে অনুভূতির কথা প্রকাশের এই প্রতিযোগিতা তাদের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমকে শাণিত করবে’। ভারাক্রান্ত পরিবেশে পুরস্কার বিতরণ
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীর চিঠিটি পাঠ করে শোনান শিক্ষক মাসুদুর রহমান। চিঠির প্রতিটি ছত্রে মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও ভাষার প্রতি টান এমনভাবে ফুটে উঠে যে, সেখানে এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিক্ষক মাসুদুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে সকল অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়ে এই সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।
চাঁদপুর শহরে এবার বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পাশাপাশি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও একুশ পালনে ব্যতিক্রম আয়োজন করে। সংগঠনটি হচ্ছে বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন। দিনব্যাপী তাদের বর্ণ প্রতিযোগিতা, কুইজ ও জনসম্পৃক্ত অংশগ্রহণে পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষার ইতিহাস, ব্যঞ্জনবর্ণ ও ভাষা শহীদদের পরিচিতি স্মরণ করিয়ে দেওয়াই ছিলো এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তাৎক্ষণিক বর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ। প্রতিযোগীরা বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ এবং অন্তত পাঁচজন ভাষা শহীদের নাম লিখে তাদের সাধারণ জ্ঞান উপস্থাপন করে। বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নে মোট ২৪ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং শতাধিক অংশগ্রহণকারীকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগীরা বলেন, “ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন আয়োজন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ী।” আরও বলেন, “আজকের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা আবারও বাংলা বর্ণমালার সৌন্দর্য নতুন করে আবিষ্কার করেছি।” বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন জানায়, এ ধরনের ভাষাচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও চলমান থাকবে এবং যুবসমাজকে বাংলা ভাষার প্রতি আরও গর্বিত করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষ দিবসগুলো পালন ও উদ্যাপনে অধিকাংশ আয়োজক গতানুগতিক ও আবশ্যিক কর্মসূচি হাতে নেয়। আমরা মনে করি, আবশ্যিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যতিক্রম কর্মসূচি সাধারণ্যে ও সুধী মহলে প্রশংসাযোগ্য ও উপভোগ্য হয়। এতে দায়সারা মনোভাবের চেয়ে আপনত্ব প্রকাশ পায়। এজন্যে অবশ্য আয়োজকদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা ও এর প্রায়োগিক চর্চার প্রবণতা থাকতে হয়। যেমনটি আমরা বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এবং বদলাও ইয়ুথ ফাউন্ডেশনে লক্ষ্য করলাম। একুশ পালনে তাদের ব্যতিক্রম আয়োজন যেমন প্রশংসাযোগ্য হয়েছে, তেমনি উপভোগ্যও হয়েছে। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।




