প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩
প্রশাসনের নাকের ডগায় এতো অনিয়ম করেন তিনি কীভাবে?

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি খাজনা ও নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন পৌরসভার মৃত সামছুল হক বেপারীর ছেলে মো. সফিকুল ইসলাম মানিক। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরকারি খাজনা ১০ টাকা হলে গ্রাহকের কাছ থেকে ৮ টাকা নেন। দাখিলা বাবদ ৫ টাকা দিয়ে রসিদ কেটে গ্রাহককে বিদায় করেন এবং বাকি ৩ টাকা তিনি নিজের পকেটে রাখেন। নামজারি জমা-খারিজের সরকারি খরচ ১,১৭০/- টাকা হলেও ওই কর্মকর্তা ৭-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কাগজপত্র জমা রাখেন। অন্যথায় বিভিন্ন অজুহাতে তা বাতিল করে দেন। এছাড়া খতিয়ান ১৪৫ ধারাসহ বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে পরিদর্শন শেষে টাকা ছাড়া কোনো রিপোর্ট দেন না। বিভিন্ন মামলা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পর তা ভলিয়মে এন্ট্রি করা তার দায়িত্ব হলেও টাকা ছাড়া তিনি এন্ট্রি করেন না। এমন অনেক মামলা রয়েছে, যেগুলো পরিদর্শন করে আসার দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও তিনি রিপোর্ট দেননি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা টালবাহানা দেখান। সর্বশেষ বলা হয়, রিপোর্ট পেতে ২০ হাজার টাকা লাগবে, টাকা না দিলে রিপোর্ট দেওয়া হবে না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মোয়াজ্জেম একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হলেও হাজীগঞ্জ শহরে তার একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তরে। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার তিনি মতলব বাজার থেকে ২০/২৫টি দেশি মুরগি, ৮/১০টি দেশি হঁাসসহ সর্বমোট ১৫/২০ হাজার টাকার বাজার করেন। নামজারির জন্যে খারিজ অনুমোদন হওয়ার পর টাকা ছাড়া তিনি ডিসিআর কাটেন না। সরকারি ডিসিআর ফি ১,১০০/- টাকা হলেও ৭/৮ হাজার টাকা না দিলে ডিসিআর করা হয় না। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন কোথাও পরিদর্শনে যাওয়ার আগেও টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তিনি পরিদর্শনে যান না। অপরদিকে, টাকা পেলে ফোন নম্বর রেখে দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিদায় করেন এবং সন্ধ্যার পর ফোনে ডেকে এনে আরো টাকা আদায় করে পরে পরিদর্শনে যান। উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বানোয়াট। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুমতাহিনা পৃথুলা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলবের মো. সফিকুল ইসলাম মানিক জেলা প্রশাসকের নিকট সাহস করে মোয়াজ্জেম হোসেন নামক জনৈক কর্মকর্তার নামে যে অভিযোগ করেছেন, সেখানে তার পদবীটা ভুল লিখেছেন। তিনি আসলে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা নন, তিনি ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (সাবেক তহশীলদার) হিসেবে মতলব পৌর এলাকায় কর্মরত। উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বলতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড কে বোঝায়। মোয়াজ্জেম হোসেনের পদবী ভুল লিখলেও সফিকুল ইসলাম মানিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগও ভুল লিখেছেন কিনা সেটা দেখার বিষয়। এসি ল্যান্ড অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরও আমাদের কথা হলো, উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মোয়াজ্জেম হোসেন এতোটা নির্বিঘ্নে ও বেপরোয়াভাবে অনিয়ম করার সাহস পেলেন কোত্থেকে? তদন্তে কী বেরিয়ে আসে জানি না, তবে কার প্রশ্রয়ে কোন্ খুঁটির জোরে মোয়াজ্জেম হোসেন অনিয়ম করার ক্ষেত্রে বেপরোয়া, সে ব্যাপারে গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ থেকে অনুসন্ধান চালানো দরকার বলে আমরা মনে করি।





