প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৩
দুর্ঘটনার নিশ্চিত নাম কি তাহলে জৈনপুর পরিবহন?

মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস খালে পড়ে কমপক্ষে ১৭ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা দুটার দিকে ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবুরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী যাত্রীবাহী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা এলাকায় এলে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় বাসে থাকা ২৫/৩০ জন যাত্রীর মধ্যে ১৭ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুমতাহিনা পৃথুলা, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব, অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিক এবং ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। উপস্থিত লোকজন অভিযোগ করে বলেন, ক’দিন পরপর এই রাস্তায় একই ধরনের বাস দুর্ঘটনা ঘটছে, ফলে নানাভাবে মানুষ আহত এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনাটির সাধারণ কারণ হচ্ছে বাস ড্রাইভারের ওভারটেক করার চেষ্টা। কথা হলো, দুর্ঘটনা সংঘটনকারী এ ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি, জৈনপুর পরিবহনের এ বাসটির বডি ফিটনেস আছে কি, এমন বাস কি বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের মতো কম প্রশস্ত ও অধিক বাঁকসম্পন্ন সড়কে চলাচল উপযোগী? সর্বোপরি সড়কটিতে জৈনপুর পরিবহনের বাসের রুট পারমিট দেয়া হলো কোন্ কারণে, কোন্ স্বার্থে? সড়কটির দুপাশের বাসিন্দারা কি এমন বাস চালু করার দাবিতে আন্দোলন করেছিলো? আমাদের জানা মতে নয়। সড়কের বিভিন্ন রুট থেকে পরিত্যক্ত হওয়া লক্কড় ঝক্কড় কিছু বাসকে রং করে ও মেরামত করে অদক্ষ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার দিয়ে বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই রুটে চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বাসের জন্যে বাবুরহাটে নেই কোনো স্ট্যান্ড। ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন জনের জায়গায় ম্যানেজ করে এ বাসগুলো রাখা হয়। উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হলেও সরকারি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা তাতে মাথা ঘামানোর সময় পান না অর্থপূর্ণ কারণে, যেটা ওপেন সিক্রেট। মতলব উপজেলা প্রশাসন সোমবারে নাগদায় সংঘটিত জৈনপুর পরিবহনের বাস দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কি সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে না সাদামাটা রিপোর্ট দিয়ে নিতান্তই দায় সারবে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
মতলব উপজেলা প্রশাসনের রিপোর্টকে কোনোভাবে প্রভাবিত করার জন্যে আমাদের এ সম্পাদকীয় নিবন্ধ নয়। আমরা নিতান্তই সত্য কথা ও আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলাম। আমরা ক’দিন পরপর বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই রুটে বারবার জৈনপুর পরিবহনের বাস দ্বারা সংঘটিত দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ দুর্ঘটনার কারণসমূহ প্রভাবমুক্তভাবে নির্ণয় করে প্রতিকারের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তথা এ বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই রুটকে নিরাপদ সড়ক করতে না পারলে একসময় দুর্ঘটনার নিশ্চিত নাম হয়ে যাবে জৈনপুর পরিবহনের বাস। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিংবা মৃত্যুর ফাঁদে পা রেখে যাত্রীরা এ বাসে আর কতোদিন ঢাকা যাতায়াত করবে, না হাসপাতালে, কবরে ও শ্মশানে যাওয়াটা নিশ্চিত করবে-এ প্রশ্ন আমরা ছুড়ে দিলাম সকলের উদ্দেশ্যে। এ প্রশ্নের জবাব যাতে পাই অবশ্যই সে প্রত্যাশায় থাকলাম।




