প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৬
মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমানের সমর্থনে লন্ডনে নির্বাচনী সভা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমানের সমর্থনে যুক্তরাজ্যে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইস্ট লন্ডনের মায়েদা গ্রিল হলে বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। সাবেক একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি ওদুদ আলমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভা শুরু হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু।
মৌলভীবাজার জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাকেরুজ্জামান ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শফিকুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এম নাসের রহমান একজন পরীক্ষিত, জনবান্ধব ও ত্যাগী নেতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে প্রবাসে বসেও সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
সভায় সদর ও রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্যে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভা শুরুর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।রাজনৈতিক দর কষাকষি নয়, নৈতিক পুনর্গঠন হিসেবে পুনর্মিলন সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, নৈতিক জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব দেলোয়ার জাহিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সরকারের অপরাধ অস্বীকার এবং অনুশোচনার অভাবের কথা উল্লেখ করে। দু প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক অ্যালবার্ট গম্বিস এবং মোর্স ট্যানের সাথে এক বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পুনর্মিলন তখনই সম্ভব যখন অপরাধীরা অন্যায় স্বীকার করে, অনুতপ্ত হয় এবং একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে। যা বর্তমানে অনুপস্থিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ-পরবর্তী অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন, যা তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই বিদ্রোহের সময় নির্যাতনের যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন সরকার দায় অস্বীকার করে চলেছে, পরিবর্তে তরুণ বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্যে সন্ত্রাসবাদকে দায়ী করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন গবেষক হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের এ বক্তব্যটি গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। অসাংবিধানিক ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের নৈতিক পতন হলে যখন একটি সরকার অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় আসেÑসেটা অভ্যুত্থান, কারচুপির নির্বাচন, অথবা বিচার বিভাগীয় দখলের মাধ্যম যা-ই হোক না কেনÑরাষ্ট্রের বৈধতা নিজেই ভেঙ্গে পড়ে। এই ধরনের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব কেবল মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেই নয়, বরং নৈতিক ও আদর্শিক দিক থেকেও নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, নৈতিক সম্মতি ছাড়াই সেখানে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা হয়।
বাংলাদেশ, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বৈধতার এই সংকটকে প্রতিফলিত করে মর্মে তীব্র অভিযোগ প্রাক্তন সরকারের পক্ষ থেকে। সাংবিধানিক শৃঙ্খলার যে পতন হয়েছে তা খুবই দৃশ্যমান। ফলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তৈরি হয়েছে : রাজনৈতিকীকরণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগ বিশেষত সরকার গঠিত ট্রাইবুনাল, বিরোধী দল, সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘুদের ওপর পদ্ধতিগত দমন পীড়ন, নির্যাতন, হত্যা ও দেশ শাসনের প্রাথমিক হাতিয়ার হিসেবে সম্মতির পরিবর্তে ভয়কে মান্যতা দেয়া হচ্ছে।
পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নৈতিক দর্শন হিসেবে সাংবিধানিকতা (জন লক এবং আফ্রিকান সাংবিধানিক চিন্তাধারা) কে কতোটা প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তা বোঝা যায় :
লকের নীতিতেÑযে সরকারগুলো শাসিতের সম্মতিতে বিদ্যমানÑ এখনও মৌলিক। যখন সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়, তখন নাগরিকরা নৈতিকভাবে আনুগত্যের জন্যে আবদ্ধ হন না।
আফ্রিকান সাংবিধানিক আন্দোলনগুলো (যেমন, ঘানার ১৯৯২ সালের সংবিধান, দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৯৬ সালের সংবিধান) সাংবিধানিকতাকে কেবল একটি আইনি দলিল হিসেবে নয়, বরং একটি নৈতিক সামাজিক চুক্তি হিসেবে পুনর্গঠিত করেছিলো।
ধরণটি আফ্রিকান অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিফলন, যেমন নাইজেরিয়া (১৯৯৩-পরবর্তী), ঘানা (১৯৯২-পূর্ব), সুদান, জিম্বাবুয়ে এবং বুরকিনা ফাসো, যেখানে অসাংবিধানিক দখল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফাঁকা করে দিয়েছিলো এবং দমন ও প্রতিরোধের চক্র তৈরি করেছিলো।
তাই কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি কেবল সমাজকে কীভাবে পুনর্মিলন করা যায় তা নয়, বরং কীভাবে একটি রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব সাংবিধানিক এবং নৈতিক ভিত্তির সাথে পুনর্মিলন করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।
দায়িত্ববোধের নীতি বনাম দণ্ডবিধির নীতি (ম্যাক্স ওয়েবার) : ওয়েবার নীতি নিম্নলিখিতগুলোর মধ্যে পার্থক্য করে :
দণ্ডবিধির নীতি : আদর্শিক বিশুদ্ধতা, প্রায়শই কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী দমন-পীড়নকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্যে ব্যবহার করে।
দায়িত্ববোধের নীতি : ক্ষমতার পরিণতির জন্যে জবাবদিহিতা।
বাংলাদেশে, শাসকগোষ্ঠী ক্রমবর্ধমানভাবে আদর্শিক বর্ণনা (জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, ধর্ম)-এর ওপর নির্ভর করে, পরিণতি উপেক্ষা করে : হত্যা, গুম, গণ-মামলা, মব জাস্টিস এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ।
আফ্রিকান সমান্তরাল : মুগাবের অধীনে জিম্বাবুয়ে মুক্তির আদর্শের মাধ্যমে দমন-পীড়ন ন্যায্যতা দেয়,
সুদানের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণকে ‘স্থিতিশীলতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে।মিলন নীতি : নেতৃত্বকে আদর্শিক স্ব-ন্যায্যতা থেকে দায়িত্বভিত্তিক শাসন ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হতে হবে, ক্ষতিকে পুনর্মিলনের পূর্বশর্ত হিসেবে স্বীকার করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার দর্শন (শান্তির আগে সত্য)
আফ্রিকান অভিজ্ঞতা বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া প্রদর্শন করে যে সত্য ছাড়া শান্তি ভঙ্গুর।
মূল নীতি : ক্ষমার আগে সত্য, জবাবদিহিতার আগে ঐক্য,ভুক্তভোগীরা আগে অভিজাত।
বাংলাদেশে, পুনর্মিলন আলোচনা প্রায়শই ‘এগিয়ে যাওয়ার’ ওপর জোর দেয়, যেখানে :বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এড়ানো, বিরোধিতাকে অপরাধমূলক করা, সংখ্যালঘুদের দুর্দশার দমন করা।
এটি ২০০৭-পরবর্তী কেনিয়ার প্রতিফলন, যেখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার ফলে বারবার রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দেয়।
ডি. সাম্প্রদায়িক পুনর্মিলন (উবুন্টু বনাম জবরদস্তিমূলক জাতীয়তাবাদ) :উবুন্টু দর্শন (”আমি আছি কারণ আমরা আছি”) জোর দেয় : ভাগ করা মানবতা, পুনরুদ্ধার মূলক ন্যায়বিচার, পুনঃএকীকরণ, মুছে ফেলা নয়। তবে, উবুন্টু কেবল সেখানেই কাজ করে যেখানে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা বন্ধ হয়।
রাজনৈতিক দর কষাকষি নয়, বরং নৈতিক পুনর্গঠন হিসেবে পুনর্মিলনী বিবেচনা করতে হবে।
অসাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে পুনর্মিলন অভিজাতদের মধ্যে আলোচনা নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক পুনর্গঠন প্রয়োজন। আফ্রিকান ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে :ন্যায়বিচার ছাড়া স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতের সহিংসতার জন্ম দেয়, সত্য ছাড়া ক্ষমা দায়মুক্তি প্রতিষ্ঠা করে, সমতা ছাড়া ঐক্য হলো জবরদস্তি। তাই বাংলাদেশের জন্যে, পুনর্মিলন শুরু করা উচিত নীরবতা বা আপস দিয়ে নয়, বরং সাংবিধানিক পুনরুদ্ধার, নৈতিক জবাবদিহিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব দিয়ে।
লেখক : দেলোয়ার জাহিদ, স্বাধীন রাজনীতি বিশ্লেষক, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ নর্থ আমেরিকান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি (এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা)।








