শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:২৩

শবে মেরাজের অনুষ্ঠানমালাকে বিদআত ফাতওয়া দেয়া

প্রিয় নবীজির মাধ্যমে পাওয়া নেয়ামত সমূহের না শোকরী করার নামান্তর

ড. মাওলানা এ.কে.এম মাহবুবুর রহমান
প্রিয় নবীজির মাধ্যমে পাওয়া নেয়ামত সমূহের না শোকরী করার নামান্তর

শবে মেরাজ বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য অকল্পনীয়, বিস্ময়কর বিজ্ঞানময়, শরীয়ত, তরীকত, হাকীকত এবং মা’রেফতের জ্ঞান অর্জনের অদ্বিতীয় ঘটনা ও অতুলনীয় মাধ্যম। লাইলাতুল ইসরা বা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ আমন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থায় রাত্রীকালিন ভ্রমন স্পেশাল রকেট বোরাক ও রফরফে উর্দ্ধগমণ বা মে’রাজ আল্লাহ প্রেমের এমন এক বিস্ময়কর কাহিনী ও জ্ঞান বিজ্ঞানের অবর্ণনীয় উৎসর্গ যা আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বিস্ময় সূচক (!) শব্দ দিয়ে বয়ান দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে : “সুবহানাল্লাজী আসরা বিআবদিহি লাইলাম মিনার মাসজিদিল হারামি ইলাল মাসজিদিল আকসা, আল্লাজী বারাকনা হাওলাহু লি নুরিয়াহু মিন আয়াতিনা ইন্নাহু হুয়াস সামীউল বাছীর।”

“মহামহিম সে সত্ত্বা, যিনি তার প্রিয়তম বন্ধুকে রাত্রিকালে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদে আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন। যার চতুপার্শ্বকে আমি বরকতময় করেছি। যার মাধ্যমে আমি আমার সান্নিধ্য লাভের পথ পরিক্রমা তাকে দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনি আমার সবকিছু শুনেছেন এবং সবকিছু দেখেছেন।” (আল কুরআন, সূরা ইসরা, আয়াত নং ১)

যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি জগতে যে সকল বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী অনাদী-অনন্তকাল সে সকল ঘটনা সৃষ্টির মাঝে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজেই আইয়ামিল্লাহ বা আল্লাহর দিন এবং শাআ’য়িরিল্লাহ বা আল্লাহর নির্দশন ও আল্লাহকে উপলব্দি করার দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এরশাদ হয়েছে ‘ফাযাককিরহুম বি আইয়্যোমিল্লাহ’ অতএব আল্লাহর দিনগুলো স্মরণ করুন (আল কুরআন, সূরা আল ইবরাহিম, আয়াত ৫)। ‘ওয়ামাই ইউ আজজীম শাআইরিল্লাহ ফা ইন্নাহা মিন তাকওয়াল কুলুব’। “যে আল্লাহর নিদশর্ণসমূহকে সম্মান করে এ কাজ তো অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টির মাধ্যম।” (আল কুরআন, সূরা আল হজ্জ, আয়াত ৩২)

আইয়্যামিল্লাহ ও শাআইরিল্লাহর মধ্যে পড়ে, আশুরার দিন। যে দিন নীলনদে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর নাজাত ও ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার দিন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর পিতাবিহীন জন্ম গ্রহণের দিন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের দুনিয়ায় আগমনের দিন, শবে মেরাজ বা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উর্দ্ধগমণের রাত্রী ইত্যাদি। এ রজনীতে একজন মানুষ বেহেশতী বোরাকে আরোহণ করেছেন। লক্ষাধিক নবী-রাসূলের সম্মেলনের প্রধান অতিথী হয়ে তাদের ২ রাকাত নামাজ পড়ায়ে ইমামুল মুরসালিন হয়েছেন। ফেরেশতাকুল শিরমনী হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম এ সফরে তঁার খাদেম হিসেবে সফর সঙ্গী হয়েছিলেন কিছু দুর পথ। সাত আসমান, আট বেহেশত, সাত দোযখ ভ্রমণ করেছেন। দেখেছেন বেহেশতের দুধ, মধু, স্বচ্চ পানি ও নেশামুক্ত সুরার বেহেশতী সাগর। দেখেছেন হাউজে কাউসার।

বিভিন্ন আকাশে বিশেষ স্বাক্ষাৎ’কার হয়। স্বাক্ষাৎকার হয় হযরত আদম আলাইহিস সালাম, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম, হযরত নূহ্ আলাইহিস সালাম, হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম, হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালাম, হযরত হারুন আলাইহিস সালাম, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর সাথে। স্বচক্ষে দেখেন সিদরাতুল মুন্তাহা। সফর সঙ্গী বিহীন একাকী প্রিয়তমের আকর্ষণ ও বিশেষ বাহনে ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করে কাবা কাউসাইন পার হয়ে তারও অনেক অনেক উর্দ্ধে আবদিয়াতের মাকামে মুকাররাবীন হিসেবে আল্লাহর দিদার লাভে ধন্য হন। যে সফরে উপহার লাভ করেন নামাজ, উম্মতের মনের মাঝে উদ্রেক হওয়া পাপ কাজ না করা পর্যন্ত ক্ষমাসহ ১৪ দফা রাষ্ট্রীয় মূলনীতি। মাটির ধরা থেকে নভমন্ডল ইথারমন্ডল পার হয়ে সূর্যের আগ্নিভরা অঞ্চল পাড়ি দিয়ে ব্লাকহোলে কালো থাবার দুর্গমপথ অতিক্রম করে নূরের জগতে গিয়ে বাশারী মানবীয় শরীরকে নূরের তনুতে রূপান্তরিত করে বিশাল জগতে পাড়ি দিয়েছেন। তাতে রয়েছে বিজ্ঞানের লাখ-কোটি শাখার জ্ঞান। যে ঘটনার পূর্ণভাবে বর্ণনা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও আসল তাৎপর্য উদঘাটন কেয়ামত পর্যন্ত কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

সে ঘটনার আলোচনা উপলব্ধিতে আনা আল্লাহ্ প্রেমের পীযুষ ধারা ও আল্লাহকে পাওয়ার পথ চেনা কতই না জরুরী, তা সহজেই একজন বিবেকবান জ্ঞানী রাসূল প্রেমিক উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। আর যারা চোখ থেকেও অন্ধ, অন্তর থেকেও উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়, কান থেকেও বধির, তারাই পারে একথা বলতে শবে মে’রাজ নিয়ে আলোচনার কী দরকার? এ রাতে দরূদ, মিলাদ, যিকর-আযকার, দান-সদকা, নফল নামায আদায় করতে দেখে তারাই আৎকে উঠে, যাদের সম্পর্কে বলা যায় ‘ফী কুলুবিহিম মারাদ্ব’ অর্থাৎ, ‘তাদের অন্তরে রোগ রয়েছে’। ইহুদীবাদী শক্তি আবহমান কাল থেকেই যে চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তা হল যত পার তাওহীদের কথা বল। তাওহীদের এমন ব্যাখ্যা দাও যাতে ‘১৪ শ বছরের দ্বীনের ধারক বাহকেরা যা করেছেন সব শিরকে পরিণত হয়। তবে আরেকটি কাজ করতে হবে। আর তা হল-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের নাম যত স্থানে উচ্চারিত হবে, যত অনুষ্ঠানে তার শান-মান তুলে ধরা হবে, তঁার জীবন চরিত্র যেখানে আলোচনা হবে, তঁার মুহাব্বাতের কথা যেখানে বলা হবে, তঁার নাম শুনে যে সব মাহফিলে আশেক ভক্তগণের চোখে মুহাব্বাতের অশ্রু প্রবাহিত হবে, এ সব কিছুকে বিদআত ফাতওয়া দিতেই হবে।

রাজা বাদশাহদের যত পার প্রসংশা করো। তাদের গুনগান গাও, তাতে কোন অসুবিধে নেই। মানুষকে বুঝাতে হবে যদি তোমাদের নবীকে বেশী প্রসংশা করো, একে বারে শেরক হয়ে যাবে। তিনি তো আমাদের মতো মানুষ। তিনি তো মরে মাটি হয়ে গেছেন, তার যিয়ারত করে কী লাভ? মে’রাজ রাতে তিনি তো কোন অনুষ্ঠান করেন নি, তঁার সাহাবারা করেন নি, খবরদার ঐ রাতে নাক ডেকে ঘুমাও, মসজিদে যেও না। কোন দরূদ বা নফল ইবাদত করলে সওয়াব তো হবেই না বরং বিদআত করে জাহান্নামে যাবে। ইহুদীবাদী শক্তির এসব ডলার মিশ্রিত বড়ি খেয়ে দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মে’রাজকে তারা অস্বীকার করছে। যদিও বাহ্যিকভাবে স্বীকার করে এর মধ্যে ও পেচ লাগিয়ে দেয়, তারা বলে মে’রাজ স্বপ্নে হয়েছে। এর সাথে এ কথাও যোগ করে, এটি একটি ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে আবার আলোচনা অনুষ্ঠান করার প্রয়োজনই বা কী?

এখন প্রশ্ন হলো রাসূলের জীবনের এ বিস্ময়কর অতুলনীয় অনন্য ঘটনা মে’রাজ আলোচনা করা যাবে না। এ রাতে তঁার শান মান তুলে ধরে তঁার নামে দরূদ ও সালাম প্রদান করতে নিষেধ আছে, এমন কোন প্রমান কি কুরআন ও হাদিসের কোথাও আছে? একজন বা একদল মুমিন তার ঈমানকে শানিত করার জন্য ১৪ দফা রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হৃদয়ঙ্গম করার জন্য আল্লাহর দিদারে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম আত্তাহিয়্যাতু আদায়ের স্মৃতিকে তুলে ধরবে, তাতে ক্ষতি কোথায়? আমরা যদি আমাদের অতীত মনীষীগণের লেখা গ্রন্থ পর্যালোচনা করি, শতাব্দীর পর শতাব্দী তাদের শিক্ষা সংস্কৃতির ইতিহাস সৃষ্টি পটে নিয়ে আসি, আমরা দেখতে পাই। তারা এসব অনুষ্ঠানমালা অনেক গুরুত্বের সাথে পালন করেছেন। এসব দিবসে রজনী উদযাপনের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহর ভালবাসা, রাসূলে খোদার প্রেম। যারা ইবন তাইমিয়া, ইবন বাযসহ গুটি কয়েকটি রেফারেন্স দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান, তারা সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, তরীকতের ইমাম হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রাহিমাহুল্লাহু, হযরত ইমাম জালাল উদ্দিন আস সিয়ূতী রাহিমাহুল্লাহু, হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রাহিমাহুল্লাহু, হযরত শাহ আব্দুল আজীজ দেহলবী রাহিমাহুল্লাহু সহ হাজার হাজার বিশ্ববিখ্যাত আলেম, তরীকতের ইমামগণের মতামত তুলে ধরেন না কেন? যারা এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিজ নিজ নামাযকে মে’রাজে পরিণত করে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লামের শান ও মান কে উপলব্ধিতে আনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

আল্লাহর ওলীগণ নিজ নিজ খানকা ও মাদরাসায় এ রজনীর ফযিলত ও হাকীকত বয়ান করে তাদের অনুসারীদের মনে প্রাণে দয়াল নবীর শান ও মানকে এমনভাবে বদ্ধমুল করে দিতেন, যার ফলে রাসূলের শান ও মানে কেউ আঘাত দিলে তারা সহ্য করতেন না। কিভাবে আল্লাহর দিদার পাওয়া যাবে, কিভাবে নামাজে মে’রাজ হবে, কোন প্রক্রিয়ায় উর্দ্ধ জগতে সায়ের (সফর) করা যাবে, তার জন্য তারা সাধনার পর চুড়ান্ত পর্যায়ে পেঁৗছাতেন। এ রাতে রাষ্ট্রিয় ১৪ দফা মূলনীতি ভালভাবে জেনে বুঝে দীনকায়েমের দ্বীপ্ত শপথ গ্রহণ করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নাম ভ্রমনে যে সকল দৃশ্য দেখেছেন তা শুনে উপলব্ধিতে এনে অনুশোচনা, আত্মশুদ্ধি ও তাওবার মাধ্যমে নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথে অগ্রসর করার চেষ্টা চালাতেন। বিজ্ঞান মনস্ক গবেষক, ছাত্র শিক্ষক মেরাজের ঘটনা শুনে ভূমন্ডল, বায়ু মন্ডল, ইথার মন্ডল ও নভমন্ডল পার হয়ে সায়রে আফাক তথা উর্দ্ধজগতে ভ্রমনের নব নব আবিষ্কারের প্রেরণা পেতেন। তারই সূত্র ধরে আবিষ্কার হয় উড়ো জাহাজ, রকেট, ভূ-উপগ্রহ। আবিষ্কৃত হয় আলোর গতি, গ্রহ, নক্ষত্রের গতি-প্রকৃতি, ছায়াপথ, ব্লাকহোলসহ হাজারো দিক। যার সবই ছিল মানুষের অজানা। আলবেরুনী, আল-খাওরেজমী, ইবন রুশদ, জাবের ইবন হাইয়্যান, ইবন হাইসাম, মুহাম্মদ রাযী, ইবন সীনা, ইমাম গাজ্জালী, তুসী রাহিমাহুমুল্লাহু আনহুম সহ জ্ঞান বিজ্ঞানের স্থপতিগণ এ মে’রাজের সিঁড়ি বেয়েই জন্ম দিয়েছেন আধুনিক সভ্যতা। ইলমে মা’রেফাতের সাধকগণ এ বোরাকে চড়েই পেয়েছেন আল্লাহর দিদার। তাইতো ইহুদীবাদী শক্তি অতি সুক্ষ্মভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষক ও আল্লাহর প্রেমের বিস্ময়কর ঘটনা, শানে রিসালাতের বাস্তব অবস্থান, এ মিরাজ যেন মুসলমানদের মাঝে আলোচিত হতে না পারে, মুসলিম জাতি যেন আবার আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির লাগাম চেপে ধরতে না পারে, তার ব্যবস্থা করেছে তাদের কিছু নিমক হালালদের দ্বারা।

যারা এ পবিত্র ঘটনার আলোচনা এই পবিত্র রজনী স্মৃতি ধরে রাখার অনুষ্ঠানমালাকে বিদআত ফাতওয়া দিয়ে প্রভুদের খুশি করতে চান। আজকে সময় এসেছে এরা কারা? কাদের ইঙ্গিতে মুসলমানদের চেতনাদীপ্ত অনুষ্ঠানমালাকে বন্ধ করতে চায়, তাদেরকে চিহ্নিত করা, তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা। নৈতিক অবক্ষয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা, উগ্রধর্মীয় মতবাদ থেকে মুসলমান সমাজ বিশেষ করে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন শবে মে’রাজ ঘরে ঘরে পালন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক সবাইকে নিয়ে এ বিস্ময়কর ঘটনা থেকে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করা। এর মধ্যে রয়েছে ঈমান, আকীদা, আমল, চেতনা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মনস্ক মগজ তৈরীর অগনিত খোরাক। যার বাস্তব উপলব্ধি যুগ যামানার সকল পশ্চাদপদতাকে দূরীভূত করে জ্বালাতে পারে আবার আলোর মশাল।

আমরা যদি কুরআন, সুন্নাহ ও মনীষীগণের গবেষণার প্রতি তাকাই তাহলে কয়েকটি দিক আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে –

আক্বিদাগত :

১। আল্লাহর হাবিব যে রহমতে আলম এর প্রমাণ এই ইসরা ও মেরাজ সফর। কোন সৃষ্টি মানবীয় শরীর ও জাগ্রত অবস্থায় এতো ঊর্ধ্বজগতে ভ্রমণ করতে পারেনি। প্রিয় নবীজির শান যে সবার ঊর্ধ্বে, তিনি তুলনাহীন, বে মিছাল তা মেরাজের ঘটনা থেকে প্রমাণিত।

২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান ও মান যে ফেরেশতা কুলের উপর প্রতিষ্ঠিত, ফেরেশতাদের দলপতি হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এই সফরে রহমতে আলমের খাদেম ছিলেন।

৩। সকল নবী রাসূলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বাইতুল মুকাদ্দাসে সকল নবী-রাসুল আলাইহিমুস সালামকে উপস্থিত করে প্রিয় নবীজির ইমামতিতে দু’রাকাত নামাজ সম্পন্ন করা হয়। আর হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম লকব ঘোষণা করেন সাইয়্যেদুল মুরসালিন।

৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’টি সত্তা – (১) জাত বা শারীরিক অবস্থা, (২) সিফাত বা গুণাবলী। উভয় অবস্থাকে মেনে নেওয়া ঈমানের অঙ্গ। জাত হিসেবে তিনি ছিলেন নূর। যেমন : ইরশাদ হয়েছে “নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।” বেশিরভাগ তাফসীরের মতে, নূর দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। যদি মেরাজকে স্বীকার করতে হয় তাহলে প্রিয় নবীজি যে নূর ছিলেন তা মানতে হয়। নূর ছাড়া ভূমন্ডল, আকাশ মন্ডল, ইথার মণ্ডল ও নভমন্ডল অতিক্রম করা, সূর্যের তাপদাহের অঞ্চল পার হওয়া, সাত আকাশ-সিদরাতুল মুনতাহা, ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করে, আরশ, কুরসি, লৌহ-কলম, ছায়া জগত, সিফাতি জগত, মাকামে মাহমুদ, লা-মাকান অতিক্রম করে, আজমতে কিবরিয়া পার হয়ে, মোকাররাবীনগণের মাকাম অতিক্রম করে কা’বা কাউসাইনের উপরে গিয়ে, আও আদনার মাকামে পেঁৗছে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করা কোন সৃষ্টির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রিয় নবীজি যে নূরানী বাশার তথা মানব আকৃতির নূরানী বদন, যার সাথে কোন সৃষ্টির তুলনা করা কুফরী এ মহাসত্যের প্রমাণ এই মে’রাজ।

যারা প্রিয় নবীজিকে আমাদের মত মানুষ মনে করে দোষে-গুনে মানুষ বলে তঁার শানকে খাটো করে, রওজার পাকে স্ব শরীরে জীবিত নেই, মরে মাটি হয়ে গিয়েছে এ সকল আকিদা বিশ্বাসের মত কুফরী আকিদায় বিশ্বাস ও প্রচার প্রসার করছে তারাই স্ব শরীরে মে’রাজকে অস্বীকার করে। আল্লাহ আমাদেরকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রেখে তঁার প্রেম, তঁার রাসূলের শান ও মান বুঝার তাওফীক দিন। আমীন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়