প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১০
শীতের তীব্রতা, কম্বল বিতরণে নেই ব্যস্ততা!

নতুন বছর (২০২৬)-এর শুরুতেই চাঁদপুরে জেঁকে বসেছে তীব্র হাড়-কাঁপানো শীত। গত ক’দিন ধরে হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু এবং বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দিক থেকে আসা হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে আগামী অন্তত দুদিন শীতের এই তীব্রতা বজায় থাকতে পারে। চাঁদপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। গত ক’দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা সাড়ে ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাশাপাশি হিমশীতল বাতাসে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে রাতভর ও দিনের বেলাতেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে নদী, সড়ক, মাঠ ও জনপদ। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়ক ও সড়কগুলোতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। যেসব লঞ্চে রাডার রয়েছে, সেগুলো নিরাপদভাবে চলাচল করছে।
তীব্র ঠাণ্ডায় কাজে বের হয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গ্রামের সাধারণ মানুষ খড়কুটো ও শুকনা পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন। গত ক’দিনে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে থাকতো এবং সেই সঙ্গে থেমে থেমে হিমেল হাওয়া বইতে দেখা যাচ্ছে। এই শীতে জেলার মতলব উত্তর, মেঘনা-ধনাগোদা এবং সদর উপজেলার চাঁদপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত ও চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে গবাদিপশু নিয়েও খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। ঠাণ্ডায় পশুর খাদ্য গ্রহণ কমে যাওয়ায় দুধ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক খামারিরা। শীতের প্রকোপ বাড়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় এবং বয়স্করা শ্বাসকষ্ট ও বাতব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন ঠাণ্ডা বা বাসি খাবার খাওয়ানো না হয়। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তীব্র শীত থেকে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দু সহস্রাধিক মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও সার্বিক তদারকি করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা। সদর উপজেলা ছাড়া অন্যান্য উপজেলায় কম্বল বিতরণে ব্যস্ততার কথা শোনা যাচ্ছে না এবং গণমাধ্যমে দেখাও যাচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/ সংগঠনের কম্বল বিতরণের অল্পস্বল্প খবর গণমাধ্যমে আসছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের চিন্তায় মগ্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, আর নির্বাচনী ব্যস্ততায় মগ্ন রাজনৈতিক দলগুলো সহ অন্যরা। চিত্তবান বিত্তবানদের অধিকাংশই হাত গুটিয়ে বসে আছে বলে মনে হচ্ছে। চাঁদপুরের দানবীর কাউছ মিয়াও বেঁচে নেই। তাঁর সন্তানরা তাঁর মতো উদার নয়। সেজন্যে কম্বল বিতরণে নেই পূর্বের ন্যায় উদ্যোগ। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ভয়ে কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করতে পারছে না। এমন বাস্তবতার বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত কম্বল সহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেয়াটা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় শীত-কাতরতায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে, অসুস্থতা বাড়বে।








