প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪
অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানই দরকার

শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি কাটায় ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। শাহরাস্তি পৌরসভার নোয়াগাঁও গ্রামে অবৈধভাবে ভেকুর মাধ্যমে কৃষি জমির মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। তিনি জানান, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ (রোববার) ভোর রাতে নোয়াগাঁও মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩টি মাটি বোঝাই ড্রাম ট্রাক আটক করা হয় এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে আটককৃত তিনটি ড্রাম ট্রাক মালিকগণের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জনাব হিল্লোল চাকমার এমন নৈশকালীন অভিযান ৪ জানুয়ারিই প্রথম ছিলো না। তিনি সপ্তাহখানেক আগেও এমন নৈশকালীন অভিযান চালিয়েছেন। ওই অভিযানে তিনি মাটি কাটার দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে সেটা আদায় করেছেন।
চাঁদপুর কণ্ঠের শাহরাস্তি ব্যুরো ইনচার্জ মো. মঈনুল ইসলাম কাজল জানিয়েছেন, কৃষি জমি রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা। ভেকুর মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়ন, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং একটি ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা জানান, কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ অভিযান গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা সহ চাঁদপুর জেলার সকল উপজেলা ও দেশের অসংখ্য স্থানে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ব্রিক ফিল্ডসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা ওপেন সিক্রেট। কিন্তু সর্বত্র এই মাটি কাটার বিরুদ্ধে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের মতো কঠোর অবস্থান নেই। আছে গোপন সমঝোতা। গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হলেই বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন আইওয়াশ ধরনের ছিটেফোঁটা অভিযান চালায়। একই সাথে গোপনে ও প্রকাশ্যে চলে মাটি কাটার কাজ। শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের মতো খুব কম উপজেলাতেই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আছে কঠোর অবস্থান। এই অবস্থান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ঐকমত্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতার কারণে যে সম্ভব হচ্ছে সেটা স্পষ্ট করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। আমরা প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে এমন ঐকমত্যভিত্তিক কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করছি কৃষিপ্রধান দেশের কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে।








