প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০১
মতলব উত্তরে কম্বিং অপারেশন, চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে নেই কেন?

মতলব উত্তর উপজেলায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধভাবে মাছ শিকার রোধে উপজেলা মৎস্য অফিসের নেতৃত্বে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৫) উপজেলার মেঘনা নদীর নাসিরারচর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৫০টি রিং চাঁই ও ৫ হাজার কারেন্ট জাল জব্দ এবং ২টি জাগ উচ্ছেদ করা হয়। ৫০টি রিং চাঁই ও ৫ হাজার কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস। উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. কালাম। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এ বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) পরিচালিত আরেকটি কম্বিং অপারেশনে মতলব উত্তরে ৫১টি চাঁই ও ৫টি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। মতলব উত্তরে বছরের সকল সময়ে মৎস্য শিকারের অবৈধ উপকরণ সহ মাছ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারে রত জেলেদের বিরুদ্ধে উপজেলা মৎস্য বিভাগ চোখে পড়ার মতো তৎপরতা প্রদর্শন করে, যেটা চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ করে না। চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ দুমাসের জাটকা রক্ষা ও অক্টোবর/নভেম্বরে ২০ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে কম-বেশি তৎপরতা প্রদর্শন করে। বছরের অন্য সময় তেমন তৎপরতা প্রদর্শন করে না বললেই চলে। এজন্যে এ দুটি উপজেলার মৎস্য বিভাগ ও নৌপুলিশের বিরুদ্ধে মুখরোচক নানা কথা ও গুঞ্জন শোনা যায়। বলা দরকার, মতলব উত্তরে মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতে মাছ ধরার অবৈধ ফাঁদ জাগ, রিং চাঁই, কারেন্ট জাল ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়, আর চাঁদপুর সদরের ডাকাতিয়া ও মেঘনায় এবং হাইমচরের মেঘনা, শাখা নদী ও খালে এগুলো মোটেও ব্যবহৃত হয় না-এটা কি কোনো সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা হলফ করে বলতে পারবেন? এ দুটি উপজেলায় পাঙ্গাশ, বাইলাসহ অন্যান্য মাছের রেণু পোনা নির্বিচারে যেভাবে নিধন হয়, তার বিরুদ্ধে কি ব্যাপক অভিযান চালানো যায় না? জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ থাকে বলেই কি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সহ অন্যান্য বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্স চালায় কম্বিং অপারেশন, আর অন্য সময়ে বরাদ্দ থাকে না বলেই একেবারে চুপ থাকে-সুধী ও সচেতন মহলে, এমনকি সাধারণ্যে এমন প্রশ্ন সবসময় উত্থাপিত হয়, যার জবাব পাওয়া দরকার।




