প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪২
ভূমিকম্প ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

দু বছর পূর্বে গণপূর্ত অধিদপ্তর জরাজীর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু এটুকুতেই শেষ। তারপর আর কোনো অগ্রগতি নেই। বরং প্রায়শই ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দোতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষই যেনো একটি মৃত্যুকূপ। সর্বশেষ শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভবনের কয়েকটি স্থানের পলেস্তরা খসে পড়ে। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের। জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দ্বিতল এ ভবনটি নির্মাণের পর আর বড়ো ধরনের কোনো মেরামত কাজ হয়নি। অতি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডরুমে অল্প বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথিপত্রগুলো ভিজে বিনষ্ট হয়ে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও লোকজনকে। ৪০জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষগুলোও কাজ করার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষটির ছাদের পলেস্তরাও উঠে রড বের হয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে পলেস্তরা, কখনো দলিলের ওপর আবার কখনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাথায় পড়ছে। যে কোনো মুহূর্তে ছাদ ধসে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দোতলার সাব-রেজিস্ট্রারের বিশ্রাম কক্ষ, রান্না ঘরসহ সকল কক্ষের অবস্থা আরো ভয়াবহ।
নকলনবিশ ফারহানা আক্তার ও সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবারের ভূমিকম্পে ক’টি কক্ষের পলেস্তরা খসে পড়েছে। এ অবস্থা তারা রোববার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) অফিস শুরু হওয়ার পর দেখতে পান। তারা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন। সামনে আরো ভয়াবহ ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় তারা বলতে গেলে মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন বলে জানান। জীবিকার টানে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন তারা। নকলনবিশ নাসরিন আক্তার বলেন, বছরখানেক আগে আমি অফিসে বসে কাজ করতে ছিলাম, হঠাৎ মাথায় পলেস্তরা খসে পড়ে আহত হয়েছি। সেই থেকে অফিসে কাজ করার সময় মৃত্যুভয় কাজ করছে। উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়াও শতাধিক দলিল লেখকসহ শত শত মানুষের ভীড় হয় এ অফিস ঘিরে। ভবনের যে অবস্থা! যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত অফিস স্থানান্তর করুক এবং নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করুক। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. তানভীর আলম বলেন, ইতঃপূর্বে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। অফিস স্থানান্তর আদেশ ও নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে অফিসের কার্যক্রম। আমার পূর্ববতী কর্মকর্তাগণও এভাবেই কাটিয়ে গেছেন।
আমাদের দেশে ভূমিকম্প ছাড়াও অন্য কোনো কারণে কোথাও বড়ো ধরনের ভবন ধসের ঘটনায় হতাহত হলেই গণমাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। তখন সরকার এমন ভবনের তালিকা তৈরির জন্যে স্থানীয় প্রশাসনকে তাগিদ দেয়, যাতে ওই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং একের পর এক ভবন পরিত্যক্ত করার ঘোষণার মহড়া চালায়। তারপর আর তেমন কিছু হয় না। সকলে ঘটনা ভুলে যেতে থাকে, আর পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনের স্থলে নূতন ভবনের কাজ না ধরায় অগত্যা সেখানেই অফিস চালাতে হয় জীবন বিপন্ন হবার সমূহ ঝুঁকি নিয়েই। ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেটা চলছে। সরকারি বরাদ্দের অভাবে এমন ঝুঁকিপ্রবণ ভবন ভেঙ্গে ফেলতে কিংবা নূতন ভবন বানাতে দেরি হয়, না কোনো কর্মকর্তার গাফলতি, উদাসীনতা ও গুরুত্ব না দেয়ার কারণে হয়, সেটা তদন্ত করে বের করতেই হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না, আর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানো যাবে না। আমরা ফরিদগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে অবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধ করে আপাতত ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালানোর জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।




