প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৬
এম এ নোমানের জন্যে শুভ কামনা

হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের কৃতী সন্তান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এম এ নোমান পেলেন ডিআরইউ (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড । ‘অদৃশ্য শক্তির কারসাজিতে বহাল আদানির চুক্তি’ শিরোনামে প্রতিবেদনের জন্যে তিনি এ পুরস্কার পান। রোববার (১৬ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এম এ নোমানের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘প্রিন্ট মিডিয়া’ ক্যাটাগরিতে তিনি এ পুরস্কার পান। ‘ডিআরইউ-নগদ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, নগদের চেয়ারম্যান কায়জার আহমেদ চৌধুরী ও প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন জুরিবোর্ডের প্রধান শামসুল হক জাহিদ। এছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ ও আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরীসহ জুরিবোর্ডের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়ে আরও ২৬ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এম এ নোমান সাংবাদিকতা শুরু করেন ১৯৯৬ সালে দৈনিক মিল্লাতের মাধ্যমে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এ পাস করার পর তিনি সেখানে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে পত্রিকাটি বন্ধ ঘোষণা করা হলে দৈনিক সংগ্রামে যোগ দেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি দৈনিক আমার দেশে স্টাফ রিপোর্টার ও পরে সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আইন-আদালত, সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পরিবেশ, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিটে কাজ করেন। ১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে তিনি এনটিভিতে যোগ দেন। ১০ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দৈনিক আমার দেশ পুনরায় প্রকাশিত হলে এম এ নোমান এনটিভি ছেড়ে দিয়ে আবার পত্রিকাটিতে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। এম এ নোমান কানাডার মাউন্ট এলিসান ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড ওয়াটার বার্ডস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘মাইগ্রেটিং বার্ডস : বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মালয়েশিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘আরবান হাইড্রোলজি এন্ড আর্সেনিক কন্টামিনেশন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আমেরিকার ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ২০তম সল্ট ওয়াটার ইন্ট্রুশন কনফারেন্সে তার উপস্থাপিত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এন্ড সল্ট ওয়াটার ইন্ট্রুশন প্রবন্ধটি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিডিংসেও প্রকাশিত হয়। জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এলএনজি সামিটে অংশ নিয়ে দেশের জ্বালানি সংকট ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিক নোমান। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি), কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়ন অব লন্ডন (সিপিউ), বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিয়েছেন এম এ নোমান। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফোরাম ফর এনার্জি এন্ড পাওয়ার, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
সাংবাদিকতায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেননি এমএ নোমান। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাস করা এমএ নোমান দেশের বিখ্যাত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত থেকে যে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলছেন, সাফল্য ও স্বীকৃতি করায়ত্ত করেছেন, সেটা সাংবাদিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিসম্পন্ন দেশের অনেক সাংবাদিকের পক্ষেই সম্ভব হয় নি। সে বিবেচনায় এমএ নোমানকে করিৎকর্মা ও সময়কে জয় করা মানুষ বলতেই হয়। আরেকটি দিক দিয়ে তিনি ব্যতিক্রম। সেটি হচ্ছে, তিনি ২৯ বছর ধরে একাধারে রিপোর্টিংয়েই আছেন, সম্পাদকীয় বড়ো পদে জড়িত হননি। দেশের প্রথিতযশা একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান নাজিম উদ্দিন মোস্তানও ছিলেন এমন। তিনি তাঁর প্রায় চার যুগের সাংবাদিকতা জীবনে রিপোর্টিংকে উপভোগ করেছেন এবং প্রাধান্য দিয়েছেন সবচে’ বেশি। দেশের প্রাচীন সংবাদপত্র ‘ইত্তেফাক’ যে ক’জন কালজয়ী সাংবাদিক দ্বারা ঋদ্ধ হয়েছেন, নাজিম উদ্দিন মোস্তান ছিলেন তাঁদের অন্যতম। আমরা বিশ্বাস করি এবং প্রত্যাশা করি, চাঁদপুরের আরেক কৃতী সন্তান এম এ নোমান তাঁর পেশাগত জীবনের মধ্য গগণে আছেন, যিনি সুস্থতার সাথে প্রয়োজনীয় আনুকূল্য পেয়ে সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে পারলে নাজিম উদ্দিন মোস্তান কেনো, তারচে’ বিখ্যাত সাংবাদিকের চেয়েও ভালো করতে পারবেন। তাঁর জন্যে নিরন্তর শুভ কামনা থাকলো।





