প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৫
দেড় দশক পর ভিন্ন পরিবেশে অন্যরকম ঈদুল ফিতর

এক মাস সিয়াম সাধনার পর এসেছে খুশির ঈদ। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে এবার সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর জেলাতেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে অন্য রকম পবিত্র ঈদুল ফিতর। অনাবিল আনন্দ ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সোমবার (৩১ মার্চ ২০২৫) উদযাপিত হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড়ো এই পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।
|আরো খবর
এ উপলক্ষে চাঁদপুর শহরের পৌর ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতসহ জেলা উপজেলার সকল স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কুশল বিনিময়, কোলাকুলি, স্বজনের কবর জিয়ারত, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখা সাক্ষাৎ করে সময় পার করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সোমবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। রেডিও-টেলিভিশনে, বেজে চলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’
রমজান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে। মুসলমানরা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। পার্থিব জীবনে মুসলমানদের জন্যে এটা অনেক বড় আনন্দের বিষয়। আরও আনন্দের বিষয় হচ্ছে মাহে রমজান শেষে এসেছে খুশির ঈদ। কারণ এই ঈদ ফিতরা দিয়ে গরিবের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। ঈদ ধনী-গরিবের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে।
এবার ঈদে ছুটি বেশিদিন থাকায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মন খুলে স্বস্তির ঈদ উদযাপন করেছে। বিনোদনের স্থানগুলোতে মানুষের ঢল নামে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আবার ছুটে চলা কর্মস্থলে। শুক্রবার থেকে শুরু হয় ঈদ শেষে মানুষের ফিরে যাবার পালা। ট্রেন, বাস, লঞ্চে ঈদ ফেরত মানুষের উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর প্রথমবারের মতো দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে, নিজেদের ইচ্ছামতো ধর্মীয় ও স্থানীয় সমৃদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ঈদ উদযাপন করেছে।
ডিসিকে/এমজেডএইচ।