প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:১৯
কবি হেলাল হাফিজ না ফেরার দেশে

'এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়'—এই অমর পঙক্তির স্রষ্টা, প্রেম ও দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ আর নেই। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
|আরো খবর
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. রেজাউর রহমান জানিয়েছেন, কবির মৃত্যু হয়েছে তার আবাসিক হোস্টেলে। কবি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
বাংলা কবিতায় এক বিস্ময়কর অধ্যায়
হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক আবেগের মিশেলে বইটি সৃষ্টি করে তুমুল আলোড়ন। প্রথম প্রকাশের পর থেকে বইটির ৩৩ বারেরও বেশি মুদ্রণ হয়েছে। এর আগে, তার লেখা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতার প্রথম দুটি পঙক্তি—
"এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।
এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,"
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়।
এই পঙক্তি আজও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে ব্যবহৃত হয়।
বোহেমিয়ান জীবনযাপন ও সাহিত্যকর্ম
নেত্রকোনায় ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর জন্ম নেওয়া হেলাল হাফিজ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। ছাত্রাবস্থায় তারকা খ্যাতি পান। তবে বোহেমিয়ান চরিত্রের অধিকারী এই কবি বিয়ে করেননি। জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তোপখানা রোড ও সেগুনবাগিচার হোটেলে। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করতেন জাতীয় প্রেস ক্লাবে।
তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। জীবদ্দশায় তার মোট তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে।
সহজ ভাষার শক্তি ও জনপ্রিয়তা
কবি এবং সাংবাদিক হাসান হাফিজ বলেন, “কবিতার জটিলতার অভিযোগ তার ক্ষেত্রে একেবারেই ছিল না। তার সরল ও প্রাঞ্জল ভাষা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”
কবি শামীম আজাদ বলেন, “তিনি কম লিখলেও প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন। তার কবিতা ছোট, কিন্তু ভাব প্রকাশে গভীর।”
প্রসঙ্গিকতায় অমরত্ব
২০১৩ সালে হেলাল হাফিজ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। তার অনন্য সাহিত্যকর্ম তাকে বাংলা কবিতায় চিরকাল প্রাসঙ্গিক করে রাখবে। কবি হয়তো নেই, কিন্তু তার সৃষ্টিকর্মের আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে।