প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৬
ব্যতিক্রমী আয়োজন : মঞ্চে নেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি, গুরুত্ব পেলো প্রকৃতি ও পরিবেশ।।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৫ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের মহাপরিকল্পনা

মঞ্চ সজ্জায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ অভিযান
|আরো খবর
সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ, ব্যানার কিংবা ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সরকারপ্রধানের ছবি ব্যবহারের চিরচেনা ঐতিহ্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। ‘সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখা যাবে না, বরং অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তুলতে হবে’—বর্তমান সরকারের এমন নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেলো জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধনী মঞ্চে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখা যায়নি। এর পরিবর্তে পুরো মঞ্চ, ব্যানার ও ডিজিটাল ডিসপ্লে জুড়ে স্থান পেয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন, প্রকৃতি এবং এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ক নান্দনিক নকশা ও ভিজ্যুয়াল।
ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব এই আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি। ''একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে আসুন, আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন।" উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমনটাই বললেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর futures কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়; বরং এটিই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন।
পুরস্কার ও চেক বিতরণ
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক হিসেবে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া
১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দেন। ১৯৯৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়ন ও জাতীয় বৃক্ষমেলার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তি ও প্রকৃতির সমন্বয়ে একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সাড়ে ৩ লাখ ‘সবুজ কর্মসংস্থান’
একটি সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল দেশ গড়তে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
ডিজিটাল নজরদারি : জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব : এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩.৫ লক্ষাধিক নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে।
দেশব্যাপী মেলার সূচি
ঢাকায় মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








