মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০

​মরুর বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ: শারজাহ্’র ‘বাঙালি মার্কেটে’ জাঁকজমকপূর্ণ বৈশাখী উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, শারজাহ্ (সংযুক্ত আরব আমিরাত)
​মরুর বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ: শারজাহ্’র ‘বাঙালি মার্কেটে’ জাঁকজমকপূর্ণ বৈশাখী উৎসব

মরুর বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ! তপ্ত বালুকারাশির মাঝেও বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি-কালচার আর ঐতিহ্যের আবহে মেতে উঠেছিলেন আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শারজাহ্ সানাইয়া ১০ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া মার্কেট এলএলসি’-এর বর্ষপূর্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব রূপ নিয়েছিল প্রবাসীদের এক মিলনমেলায়।

উদ্যোক্তার সফল পথচলা এই মহতী আয়োজনের মূল কারিগর চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সাচারের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মনির হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতে সফলতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা এই উদ্যোক্তা প্রবাসীদের কর্মসংস্থানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটে শতাধিক দোকান রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘বাঙালি মার্কেট’ হিসেবেই সমধিক পরিচিত। উল্লেখ্য যে, এই মার্কেটের মাধ্যমে সহস্রাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়, যা বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও জোরালো করে তোলে। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় মুখ ও সিলেটের কৃতি সন্তান সোহাগ হোসেন। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

আয়োজনের টুকরো কথা

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য: অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বৈশাখী সাজে সজ্জিত দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ব্যবসায়িক গুরুত্ব: মার্কেটটির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা তাদের সফলতার গল্প ভাগ করে নেন এবং নতুন বছরে ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উৎসবের আমেজ: গান, আড্ডা আর স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে একখণ্ড বাংলাদেশ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

আয়োজক মনির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা বিদেশের মাটিতে থাকলেও আমাদের হৃদয় পড়ে থাকে বাংলাদেশে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যস্ত প্রবাসীদের মাঝে একটু আনন্দ বিলিয়ে দেওয়া এবং আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।"

মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে গিয়েছিলেন যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি, মেতেছিলেন প্রাণের উৎসবে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়