প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮
আমেরিকার রাজপথে ‘জনতার গর্জন’!
ট্রাম্পের ‘একনায়কতন্ত্র’ ও ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে উত্তাল ৫০ অঙ্গরাজ্য

ওয়াশিংটন ডিসি ও মিনিয়াপোলিস | ঠিক এক মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদ এবং অভ্যন্তরীণ ‘দমনপীড়নের’ বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে মার্কিন জনতা। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩,৩০০-এরও বেশি স্থানে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফার কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বার্তা— “আমেরিকা কোনো রাজার শাসনে চলবে না।”
|আরো খবর
মিনেসোটায় আবেগের বিস্ফোরণ: অ্যালেক্স ও রেনির রক্তে ভেজা রাজপথ
শনিবারের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকা। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর অধীনে কয়েক হাজার ফেডারেল এজেন্ট এই এলাকায় অভিযান চালায়। জানুয়ারিতে সেই অভিযানে নিহত হন দুই মার্কিন নাগরিক— অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড।
বিক্ষোভ সমাবেশে এই দুই নিহতের স্মরণে শোক ও ক্ষোভের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন:
"ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদরা যখন এই অন্ধকার সময়ের কথা লিখবেন, তখন মিনেসোটার মানুষের সাহসের কথা আলাদা একটি অধ্যায়ে লেখা থাকবে। আমরা এই দেশকে ধনকুবের আর স্বৈরাচারীদের হাতে ছেড়ে দেব না।"
মঞ্চে যখন স্প্রিংস্টিন ও বায়েজ
বিক্ষোভের তেজ আরও বাড়িয়ে দেয় সাংস্কৃতিক জগতের কিংবদন্তিদের উপস্থিতি। রক স্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিন তাঁর নতুন প্রতিবাদী গান ‘অন দ্য স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস’ পরিবেশন করেন। লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ এবং অভিনেত্রী জেন ফন্ডাও রাজপথে নেমে সংহতি প্রকাশ করেন। হলিউড তারকা রবার্ট ডি নিরো এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘সরকারি গুন্ডা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সশস্ত্র হামলার মুখেও জনগণের এই বীরত্ব গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখবে।
‘নো কিংস’ আন্দোলন: এবার লক্ষ্য রক্ষণশীল এলাকা
আগের দুটি বিক্ষোভ (জুন ও অক্টোবর ২০২৫) মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক থাকলেও, এবারের কৌশল ছিল ভিন্ন। প্রগতিশীল সংস্থা ‘ইনডিভিজিবল’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ জানান, এবার লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলো। আইডাহোর ছোট শহর থেকে শুরু করে আলাবামার গ্রামীণ এলাকা—সবখানেই মানুষ ‘রাজতন্ত্রের’ বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী নির্বাচন
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
- ইরান যুদ্ধ: যুদ্ধের ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
- অভিবাসন নীতি: মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যু কট্টর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে জনমতকে আরও উসকে দিয়েছে।
- মধ্যবর্তী নির্বাচন: ডেমোক্র্যাটরা পড়তি জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার ছক কষছে।
নিউ ইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, এমনকি প্যারিস, রোম ও বার্লিনেও ট্রাম্প-বিরোধী এই আন্দোলনের সমান্তরাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়ালে জমায়েত হওয়া হাজারো মানুষের হাতে ছিল একটিই স্লোগান— “রেজিম চেঞ্জ বিগিনস অ্যাট হোম” (শাসন পরিবর্তন শুরু হোক ঘরেই)।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া (২০২৬ বিক্ষোভ), এম্পিআর নিউজ, এবং রয়টার্স লাইভ আপডেট।








