প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪, ০০:০০
ফসলি জমিতে স্টেডিয়ামের প্রস্তাবনায় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ
নিঃস্ব হবে হাইমচরের বহু কৃষক

কৃষি হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম। এ কৃষকদের শ্রমঘামের বিনিময়ে সারাদেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটে। আর সেই কৃষকদের ফসলি জমি নষ্ট করে হাইমচরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে শেখ রাসেলের নামে একটি স্টেডিয়াম।
জানা যায়, স্টেডিয়ামের জন্যে উপজেলার ২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত উত্তর আলগী মৌজায় প্রায় সাড়ে ৩.১৯০০ একর ভূমি প্রস্তাব করা হয়। স্টেডিয়াম নির্মিত হলে পাশের জমিসহ প্রায় ৫ একর কৃষি জমি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে নিঃস্ব হবে হাইমচরের বহু কৃষক। তাই ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম চায় না এই এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। স্টেডিয়ামের জন্যে প্রস্তাবিত কৃষি জায়গার পরিবর্তে অন্য কোথাও নির্মাণ করার জন্যে জোর দাবি জানান কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের জন্যে কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকরা ভূমিহীন হয়ে যাবে। প্রস্তাবিত কৃষি জমিতে কৃষকরা বছরে তিন ফসল চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তাছাড়া ধান, গম, ভুট্টা, পানের বরজ, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। এ ভূমি থেকেই গবাদি পশুর জন্যে খড় ও ঘাসের ব্যবস্থা করেন।
ভূমিহীন কৃষকরা জমি বর্গা এবং ইজারা নিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেই যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। ফলে ঘরবাড়ি তৈরির জন্যে উক্ত ভূমি ব্যবহার করতে হবে। অত্র উপজেলার অধিকাংশ জমি নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে এবং ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় মানুষের জীবন যাপনের উপর ব্যাপক প্রতিকূল প্রভাব পড়বে। এছাড়া এখানে স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে আশেপাশের কৃষি জমি বন্যায় প্লাবিত হবে।
কৃষক মিজান জানান, স্টেডিয়ামের জন্যে প্রস্তাবিত জমিতে তার নিজের ৪৬ শতাংশ জমি থেকে প্রতি বছর ৪০ মণ ধান ঘরে তোলেন তিনি। ধান, ভুট্টা, সয়াবিন, কলই ইত্যাদি চাষাবাদ করেন। এ কৃষি জমির আয়ের ওপর তার ৭ সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল। এ জমিতে স্টেডিয়াম হলে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসবেন। তাই তিনি এ কৃষি ফসলি জমি নষ্ট করে স্টেডিয়াম হোক তা চান না।
কৃষক কালু হোসেন জানান, হঠাৎ করে সরকারি লোকজন এসে বলেন, আমাদের কৃষি জমিতে শেখ রাসেল নামক স্টেডিয়াম হবে। এ কথা শুনে আমরা যেন আকাশ থেকে পড়ি। এখানে স্টেডিয়াম হলে আমরা কীভাবে আমাদের সংসার চালাবো। আমাদের প্রতি বছরের চাল ডাল এ জমি থেকে উৎপাদিত হয়। আমাদের কোন চাল কিনা লাগে না। এখানে স্টেডিয়াম হলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাবো। আমরা এখানে কোনোভাবেই স্টেডিয়াম চাই না। আমার ৪০ শতাংশ জমির আয়-ব্যয়ের ওপর ৮ সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল। জমিতে চাষ করতে না পারলে সন্তানদের নিয়ে আমরা কোথায় যাব, কী খাব। এ ভেবে এখনই পাগল হওয়ার মত। আমাদের জীবনমান রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বলেন, হাইমচরে ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্যে প্রস্তাবিত জমি ফসলি জমি কিনা তা তদন্ত করার জন্যে আমাকে চিঠি দেয়া হয় নি। চিঠি পেলেই আমি তদন্ত কাজ শুরু করবো। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ঐ জমিগুলো ফসলি, তবে তিন ফসলি জমি না। এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় কৃষকদের সাথে বসে আলোচনা করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন, কৃষকদের জীবন জীবিকার ক্ষতি করে কোনো কাজ আমরা করবো না। স্টেডিয়ামের জন্যে প্রস্তাবিত জায়গা ফসলি জমি কিনা তা যাচাই করার জন্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি রিপোর্ট দিলে আমরা তা জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠাবো।