প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪, ০০:০০
দায়িত্বপরায়ণ অভিভাবক শেখ খাদিজা বেগম
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের সময়নিষ্ঠায় মুগ্ধ

দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ের বাছাই (প্রান্তিক), আন্তঃউপজেলা পর্যায়ের বাছাই (অভিযাত্রা-১) ও চূড়ান্ত বাছাই (অভিযাত্রা-২) পর্বে যে ক'জন বিতার্কিকের অভিভাবকের দায়িত্বপরায়ণতা আয়োজকদের সুনজর কেড়েছে, তাদের মধ্যে শেখ খাদিজা বেগম অন্যতম। তিনি তাঁর মেয়ে মারিয়া মাহজাবিন খানকে বিতর্কের ভেন্যু চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তন ও চাঁদপুর রোটারী ভবনে পৌঁছানোর ও আবার বাসায় নিয়ে যাবার জন্যে আসেন নি, প্রতিযোগিতার শুরু থেকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত ভেন্যুগুলোতে অবস্থান করেছেন, বিতর্ক শুনেছেন, মেয়ের জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, হারে সান্ত¡না দিয়ে উজ্জীবিত রেখেছেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক, চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্র্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। তিনি মেয়ের সৃজনশীল কাজে, বিশেষ করে সুকুমার বৃত্তি চর্চার কাজে শুক্র ও শনিবার তো সময় দেনই, খোলার দিনে কর্মস্থল থেকে ছুটিও নেন। শুধু কি তা-ই, মেয়ের এ সকল কাজকে তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে গিয়ে স্বামীর সাথে আনন্দ ভ্রমণ সহ অনেক বড়ো অনুষ্ঠানে পর্যন্ত যান না।
শেখ খাদিজার একমাত্র সন্তান মারিয়া আল আমিন একাডেমী ছাত্রী শাখার নবম শ্রেণীতে পড়ে। তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়েকে নিয়ে দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের অভিযাত্রা-২ পর্বে অংশ নিতে আসলে 'বিতর্কায়নে'র মুখোমুখি হন।
'আপনি মেয়ের জন্যে কেন এতো দায়িত্বপরায়ণতা প্রদর্শন করেন' এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার নিজের পুরো শিক্ষা জীবনে আমি বিতর্কসহ
কো-কারিকুলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাইনি। কিন্তু এসব কার্যক্রম দেখে আগ্রহ জাগতো। তবে আমার বাবা-মা'র আগ্রহ ছিলো না বলে অংশগ্রহণের কথা মুখ ফুটে বলার সাহস করিনি। সেই বোধ থেকে মেয়ের ব্যাপারে খুবই যত্নবান, যাতে সে নিজের প্রতিভা বিকাশ ও লালনে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। বিতর্কে আমার মেয়ের যেমন আগ্রহ ও সাফল্য আছে, তেমনি বই পড়া, রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার সাফল্য আছে। সায়েন্স ফিকশনে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখায় সে প্রথম হয়েছে। চাঁদপুর ডিবেট মুভমেন্টের স্কুল অব ডিবেট থেকে সে বাংলা বিতর্কে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, আর চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমীর দিনব্যাপী ইংরেজি বিতর্ক বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে এখন তিনমাসব্যাপী কোর্সে ভর্তি হয়ে ক্লাস করছে। বিতর্কের ব্যাপারে তার বিদ্যালয় খুব আন্তরিক। ছাত্রী শাখার ইনচার্জ নাসরিন ম্যামসহ দুটি শাখার বিতর্ক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বিতার্কিকদের উৎসাহ দেন ও প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করেন। আমি স্ক্রিপ্ট তৈরির পর আমার মেয়েরটা বাসায় শুনি।
তিনি জানান, তার মেয়ে মারিয়া প্রথম বিতর্ক করেছে রায়পুরে 'জাগ্রত রায়পুরে'র আয়োজনে। আর দ্বিতীয় বিতর্ক হচ্ছে দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক। এই বিতর্কে সময়নিষ্ঠার বিষয়টিতে তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন অকপটে।