প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০০:০০

একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তখন তার ন্যূনতম প্রস্তুতি নিতে হয়। সে কীভাবে কথা বলবে, কীভাবে উপস্থাপন করবে, কীভাবে সে বক্তব্য শুরু করবে, কাকে শুরুতে সম্বোধন করে কথা বলবে, প্রতিপক্ষকে কীভাবে ঘায়েল করবে, কীভাবে সে সেরা হবে, কীভাবে দলকে জিতাবে। এই সমস্ত প্রশ্ন সমাধানের প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু সে যদি বিতর্ক না করে, তাহলে কি তার মনে এই সব প্রশ্নের জন্ম হয়? না, মোটেই না। বিতর্কের প্রস্তুতি নিতে হয় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। যেমন--বই, ইন্টারনেট, বিতর্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক থেকে, সাবেক বড় ভাই যারা বিতর্ক করেছে তাদের থেকে। একজন বিতার্কিক হয় সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে একটু অসাধারণ। সবাই তার প্রতি একটু আলাদা দৃষ্টি রাখে। কারণ সে অন্য শিক্ষার্থী থেকে একটু এক্সট্রা।
বিতর্ক কেন প্রয়োজন?
শিক্ষক যখন ক্লাস নেন তখন অনেক শিক্ষার্থীই ঐ ক্লাসে পড়াটা পারে। কিন্তু বলতে গেলে আর বলে না। কারণ, সে ভয় পায়। পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্ক করে, তখন তার এই ভয়ের জায়গাটা দূর হয়ে যায়। তখন সে সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়। এজন্যেই একজন শিক্ষার্থীর বিতর্ক করা প্রয়োজন। জ্ঞানকে শাণিত করতে হলে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাথে থাকে, তারা যে কোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় সবার আগে। কারণ, বিতর্কের সময় যে জ্ঞানটা অর্জন হয় সেটি তার যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় এবং ভাইভায় কাজে লাগে। সে হয়ে উঠে অনন্য শিক্ষার্থী।
গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা :
একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তখন সে তার কথা বলার নিপুণ দক্ষতার মাধ্যমে সবার মন জয় করে। যে কোনো প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলে। যে কোনো জায়গায় তার অবস্থান জানান দিতে এর জুড়ি নেই। একজন শিক্ষার্থীর বিচিত্র জ্ঞানভাণ্ডার ক্লাসরুম থেকে জব ইন্টারভিউ পর্যন্ত সব জায়গায় কাজে লাগে এবং এই জায়গাটা বিতার্কিকরাই দখল করে আছে।
বিতর্ক না করার কারণে কী কী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয় ?
একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্ক করতে যায়, তখন সে গুণীজনকে চিনে এবং তাদের বক্তব্য থেকে যে জ্ঞান অর্জন করে, অন্য শিক্ষার্থী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা মন্ত্রী, ডিসি, এসপি, কবি, লেখক, সাহিত্যিক, ভাষাবিদকে চেনে না বা চেনার সুযোগ হয় না। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেই এসব বিজ্ঞ লোককে চেনা যায়। তাদের কথা থেকে অনেক কিছু শিখা যায়, যা পরবর্তী জীবনে কাজে লাগে। যেমন চাকুরি ক্ষেত্রে, সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং পরিবার পরিচালনায় ক্ষেত্রে ইত্যাদি।
বর্তমান সময় এই পৃথিবীতে গুছিয়ে কথা বলার মানুষ সংখ্যায় খুবই নগণ্য। এখন সমাজে, রাষ্ট্রে, পরিবারের সর্বত্র গুছিয়ে কথা বলার মানুষের কদর অনেক বেশি। তাই অনেক কিছু দখল করার মাধ্যম হলো সুন্দরভাবে কথা বলা। আর এই সুন্দর কথা বলা শিখার সঠিক জায়গা হলো বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তাই একজন শিক্ষার্থীর সঠিক সিদ্ধান্ত হোক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। কারণ যতফুল ফুটে সব ফুলই ঝরে যায় বা শুকিয়ে যায়, কিন্তু বিতর্কের ফুল কখনও ঝরে না, শুকায়ও না। তাই বিতর্ক নামক ফুলটা যেন তাজা থাকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
লেখক : সিনিয়র সহ-সভাপতি, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ), চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখা; সহকারী শিক্ষক, বেসরকারি হাই স্কুল।