শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

ইচ্ছে

হেফাজুল ইসলাম হিমেল
ইচ্ছে

একটা ছোট শিশুর স্বপ্ন দেখা ও তার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া এবং তার জীবন। তিন বন্ধু আমি, আজিজ ও রিয়াজ মিলে একদিন সি-বিচে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার দিকে রওনা দিলাম বাসার দিকে। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর আমরা বাসার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি। গল্প করতে করতে হাঁটছিলাম। পথিমধ্যে দেখি এক জায়গায় ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। দিনের আলো লাগছে না আর। দেখে আর লোভ সামলাতে না পেরে খেলা দেখতে গেলাম।

ছোট একটা শিশু এসে বলল, ভাইয়া চা খাবেন, চা খাবেন চাৃ। আমরা এখন খেয়ে আসছি বলে এড়িয়ে যেতে চাইলাম। বাচ্চাটা নাছোড়বান্দা ‘ভাইয়া খাননা এক কাপ চা’। তার কথায় দেখলাম কানড়বার ভাব। আমরা কুশল বিনিময় করি। তোমার কী হয়েছে? কান্না করছো কেন? সে বলছে কই কিছু না তো এই বলে সে লুকিয়ে চোখ মুছল। বললো ভাইয়া আমি চা বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।

এটুকু বাচ্চা, বয়স হলে আট নয় বছর হবে। তোমার আবার কিসের সংসার? সে বললো ভাইয়া বাড়িতে আমার মা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। টাকার অভাবে মাকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমরা দুই ভাই চা বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে মায়ের ওষুধ খরচ এবং কোনো রকম সংসার চলে।

তোমার বাবা কোথায়? সাথে সাথে সে কান্নাজড়িতকণ্ঠে বললো, বাবা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে আজ থেকে দুই বছর আগে। তোমরা কয় ভাই বোন? আমরা তিন ভাই দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। আমি ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তুমি পড়ালেখা করো না? আগে করতাম এখন আর অভাবের কারণে পড়ি না। আমি চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছি। জানো ভাইয়া আমার অনেক বড়ো হওয়ার ইচ্ছা ছিল। আমি স্থপ্ন দেখতাম পড়ালেখা করে একদিন আমি অনেক বড়ো হবো।

তোমার বড়ো ভাই কী করে? দোকানে চাকরি করে। বড় ভাইয়া তোমাদের পড়ালেখার খরচ দেয় না? আগে দিতো এখন আর দেয় না। এখন সে বিয়ে করে আমাদের থেকে চলে গেছে। সে আর আমাদের সবার সাথে থাকে না। আলাদা এক জায়গায় বাসা নিয়ে থাকে। তারপর থেকে আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আমার বড়ো হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়। পরিবারের হাল ধরার জন্য মা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতো। আর আমরা চা বিক্রি করি।

তুমি দিনে কতো টাকা পাও চা বিক্রিকরে? দুই তিন শত টাকার মতো পাই। মাঝে মাঝে একদম কম পাই। আমার এগুলো করতে অনেক কষ্ট হয়। এক কাপ চা বিক্রি করার জন্য আমার অনেক দূর পর্যন্ত যেতে হয়। যেখানে মানুষের ভিড় সেখানে আমি প্রতিদিন যাই। আমি রোজ দশ থেকে বারো ঘণ্টা চা বিক্রি করি। প্রায় সময় আমাকে না খেয়ে থাকতে হয়। এটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর। তোমার লেখাপড়া করার ইচ্ছে আছে? হ্যাঁ ভাইয়া।

ইচ্ছা থাকলে কি আর পড়তে পারবো? যখন পেটে ভাত থাকে না তখন কিভাবে লেখাপড়া করবো। আমরা যদি কাজ না করি তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে এবং মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে পারবো না। অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চলে। তার জীবনের কাহিনী শুনে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেলাম। একটা সময় মনটা খারাপ হয়ে গেলো। বাস্তবতা যে কতো কঠিন তা আমরা তার জীবন কাহিনী শুনে বুঝতে পারছি।

এ রকম কতো শিশু আমাদের সমাজে পরিবারের জন্য কষ্ট, পরিশ্রম করে যাচ্ছে তা বলার মতো না। কত ছেলের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুঃখের বিষয় হচ্ছে তার কাছ থেকে আমরা চা খেতে পারলাম না। খেলার মাঝে হইচই বেধে গেলে সবাই এদিক ওদিক ছুটে যাচ্ছে। ছেলেটাও কোথায় চলে গেল আর আমরাও দ্রুত ওখান থেকে চলে এলাম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়